ভালবাসি তোমাকে ভীষণ

0
169

writer :Abdullah Al Mamun

.প্রতিদিনের মতো আজও অপেক্ষা করতেছে মেয়েটা। কখন ছেলেটা গীটার হাতে করে ছাদে যায়।

. সারাদিনের বিরক্তিকর ডিউটি শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় আসে অর্ক। আজও…….

– মৌমিতা ভীষণ ক্ষিধে পেয়েছে খেতে দাও….

– ফ্রেশ হয়ে আসেন আমি, আমি সবকিছু টেবিলে নিয়ে আসতেছি।

– সরি মেডাম বউয়ের লিপিষ্টিক খেতে ফ্রেশ হতে হয় না।

– সারাদিন বাচ্চাদের মতো দুষ্টুমি, যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি আজ তোমাকে খাইয়ে দেবো।

– কোথায় সারাদিন দুষ্টুমি করলাম? অফিস থেকেই তো মাত্র আসলাম।

– যা করতে বলেছি তাই করবে। এত্ত বেশি কথা বলো কেন?

– কোথায় বেশি কথা বললাম? হুম এইটাই কথা কম কাজ বেশি। একটু লিপিষ্টিক খাইয়ে দাও না প্লিজজজ।

– পারবো না তোমার যা ইচ্ছে তাই কর আমি যাচ্ছি।

– যেতে দিলে তো যাবে তাই না?

– ছাড়ো বলছি……….

-আআআআআআউচ উফপপপপ এইটা কি হলো?

– হি, হি,হি ,হি তোমার হাতে একটা হাতঘড়ি লাগিয়ে দিলাম পছন্দ হইছে বাবুটা?

– উহু হু, কিহহহ এইটা হাতঘড়ি হলো? দেখো হাতে কামড় দিয়ে দাঁত বসিয়ে দিয়েছো।

– হুম হি, হি, হি মিষ্টি বউয়েরা এইভাবেই তাদের দুষ্টু বাবুটাকে হাতঘড়ি গিফ্ট করে।

. – ওহ হুম মিষ্টি বউয়ের এইরকম গিফ্ট পাওয়ার পর দুষ্টুছেলেরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা….. অতঃপর….. জিব্বাহ দেখিয়ে পালালো পাগলীটা। দৌড়ের মধ্যে…….. হঠাৎ বসে কান্না শুরু করে দিলো মেয়েটা। গেছে রে বালিকার অভিনয় শুরু।

. – হঠাৎ কি হইছে তোমার পাখিটা?

– আমি তোমার সাথে কথা বলবো না, সরো আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবে না হু, হু, হু (নাক মুখ একাকার করে কেঁদেই যাচ্ছে)

– আরে কি হইছে হঠাৎ? আমি পারবো না তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে।

– জানিনা, কেন পারবে না? আমি তোমার কে?

– আমি তোমাকে ভীষণ ভালবাসি তাই, তুমি আমার একটাই মাত্র কিউট বউ।

– (কান্নাজড়িত কন্ঠে) তুমি একটা মিথ্যুক আমার সাথে ভালবাসার অভিনয় করছো। যদি আমাকে ভালবাসতে তাহলে আমার কথা শুনতে।

– ওকে সরি মেডাম কান ধরলাম আর আপনার কথার অমান্য হবে না। বলুন কি করতে হবে আমাকে?

– কান ছাড়ো, বাঁদরের মতো দেখাচ্ছে তো, আপদত আমাকে কোলে করে বাসায় নিয়ে যেতে হবে হি, হি, হি হি।

তারপর ফ্রিশ হয়ে আসবা আমি তোমাকে খাইয়ে দেবো, তারপর আমার সাথে গল্প করবা, আমি তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবো সকালে ৬ টায় উঠে নামায পড়তে হবে, তারপর তোমার হাত ধরে ঘুরতে বের হবো। ঠিক টাইম মতো অফিসে যেতে হবে সন্ধার দিকে বাসায় ফিরতে হবে লেট হলে আমার ভয় করবে আমি কান্না শুরু করে দেবো।

. . হাতের সিগারেট শেষ হয়ে হাতে আগুনের তেজ লাগতেছিলো। বাস্তবে ফিরে আসে অর্ক চোখদুইটা পানিতে ভরে উঠে।…….

. মৌমিতা তোমার পাগলাটা অনেক পাল্টে গেছে সিগারেট খেতে শিখেছে ঠিকমতো খাওয়া, দাওয়া করে না, ঠিক মতো ঘুমায় না, শাষণ করবে না আমার? খুব একা হয়ে গেছি আমি।

আচমকা মুখ ডেকে ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কেদে উঠে অর্ক……. তুমি খুবই খারাপ স্বার্থপরের মতো চলে গেলে আমাক ফেলে?

. . সকালের আলোতে ঘুম ভাঙ্গে অর্কের কিছুটা বিস্মত হয় পরক্ষণে মনে পড়ে গীটার বাজতে বাজাতে ছাদে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কিন্তু গায়ের উপর চাদর ওইটা কিভাবে আসলো?

হঠাৎ মেয়েলি কন্ঠে…….. – গুড মরনিং স্যার…. – আপনি? – আমি প্রভা আপনার গীটারের স্বুরের আকর্ষণে প্রতিদিন ছাদে আসি। কালকে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ডাকার সাহস হয়নি টান্ডা লাগতে পারে ভেবে ওইটা আপনার গায়ের উপর দিয়ে গিয়েছিলাম।

. চাদরটা রেখে হনহন করে চলে আসে অর্ক। রাগান্বিত দৃষ্টিতে অর্কের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তাকে মেয়েটা।

. . পরদিন……. অনিচ্ছাসত্ত্বেও গীটার হাতে করে ছাদে চলে আসে অর্ক। বেশ ক্লান্ত মনে হচ্ছিলো নিজেকে, চিনচিন করে মাথাব্যথা করতেছে শরীরটা দূর্বল লাগতেছে, একটা সিগারেট জ্বালিয়ে নে।হঠাৎ……

– এই যে মিস্টার জানেন না সিগারেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

– কি চান আপনি?

– হাতের সিগারেটটা ফেলে দিবেন আপাদত এইটা।

– আমাকে প্লিজজজ বিরক্ত না করে এখান থেকে চলে যান।

– সেটা সম্ভব না, এখন থেকে আমি আপনার পাশে বসে থাকবো সিগারেট খেতে দেবো না। আপনি গীটার বাজাবেন আমি দেখবো হি, হি হি।

. গীটার হাতে নিয়ে চলে আসতে লাগলো অর্ক………. মেয়েটা পথরোধ করে সামনে এসে দাঁড়ালো। রাগান্বিত স্বুরে…….

– ভদ্রতা শিখেন নি? জানেন কেউ কথা বলতে চাইলে অন্তত ভদ্রতার জন্য তার সাথে কথা বলতে হয়। (কান্নাজড়িত কন্ঠে) আপনি আমার সাথে এইরকম করেন কেন?

– আপনি প্লিজজজ চলে যান এখান থেকে বিরক্ত না করে। আমার মানুষিক অবস্থা আপনি জানেন না।

– জানিনা জানতে চাই। . কেসে উঠে অর্ক, মাথাটা ভীষণ ধরেছে, শরীরটা বেশ দূর্বল লাগতেছে। হঠাৎ…..

মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যেতে লাগলো অর্ক মেয়েটা এসে ধরলো। . – (কান্নাজড়িত কন্ঠে) জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে আর আপনি গীটার নিয়ে ছাদে চলে এসেছেন?

. . সকালের আলোতে ঘুম ভাঙ্গে অর্কের চোখ খুলে তাকাতেই মেয়েটার মায়াবী মুখের উপর দৃষ্টি পড়ে অর্কের। কাজল কালো চোখ, ঠোঁটে হালকা করে লিপিষ্টিক, কপালে ছোট্ট করে ঠিপ, বাতাসে দু,চারটা চুল এসে এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে মুখেউপর এইগুলাতে মেয়েটাকে আরো বেশি সুন্দর করে তুলেছে।

মেয়েটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অর্ক, মন চাচ্ছিলো মেয়েটার মুখের উপর থেকে চুল গুলি সরিয়ে দিতে কিন্তু সেটা সম্ভব না।

. আচমকা মেয়েটা চোখ খুলে তাকায় অতঃপর লজ্জারাঙ্গা মুখে……..

– সরি আসলে কালকে রাতে আপনার….

– ইট’স ওকে……..

– উঠার চেষ্টা করবেন না যেভাবে শুয়ে আছেন এইভাবেই থাকেন। আমি আপনার জন্য খিঁচুড়ি বানিয়ে নিয়ে আসতেছি।

. খিঁচুড়ি খাইয়ে দিয়ে……. ঔষধ এইগুলাই শেষ প্লিজজজ এইটা খেয়ে নেন তাহলে আর বিরক্ত করবো না।

হাত দিয়ে মুখ ডেকে ফুঁপিয়ে ,ফুঁপিয়ে কেদে উঠলো অর্ক…….

. – আরে এত্ত ভেঙ্গে পড়তেছেন কেন? দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

– মৌমিতাকে ভীষণ মনে পড়তেছে।

– কে ইনি?

– আমার স্ত্রী…..

– স্ত্রী মানে?

– হুম ভীষণ ভালবাসতাম ওকে ভালবেসেই আমারা বিয়ে করেছিলাম খুব ভাল কাটিতেছিলো দিন কিন্তু কপালে সহ্য হলো না সেটা।

আমাকে আমার প্রিয় গিফ্টটা দিতে গিয়ে ও স্বার্থপরের মতো আমাকে ফেলে চলে যায়। ওর দেওয়া প্রিয় গিফ্টটাওহারিয়ে ফেলেছি।

পারিনি রাখতে ওর আম্মুর কাছে চলে গেছে আমাকে একা করে। ও থাকলে হয়তো আমি এইরকম হতাম না। কথা গুলা বলে ডুকরে, ডুকরে কেদে উঠে অর্ক।

– আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আচ্ছা আপনার নামটা কি?

– ধন্যবাদ দিলেই শেষ? আমার নাম প্রভা এখন থেকে মৌমিতা।

– মৌমিতা মানে?

– মৌমিতা মানে মৌমিতা, আমি আপনার মৌমিতা হতে পারিনা?

– নাহ সেটা সম্ভব না।

– কেন সম্ভব না?

– আমার ভাঙ্গা, অনিশ্চিত জীবনের সাথে নতুন করে চাইনা কাউকে জড়াতে।

– কিন্তু আমি জড়াতে চাই, আপনার ভাঙ্গা জীবনটা জোড়া লাগাতে চাই, অনিশ্চিত বলতেছেন সবার জীবনই তো অনিশ্চিত। যত্তদিন বাঁচবেন ততদিন আপনার মৌমিতা হয়ে থাকতে চাই। প্লিজজজ আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না……

– এইটা সম্ভব না। . আর কিছু বলতে পারতেছে না মেয়েটা ঠোঁট দুইটা রাগে কাপতেছে। গাল বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তেছে (কন্নাভেজা কন্ঠে) আই লাভ ইউ বলে হনহন করে চলে যায় প্রভা।

. . আজ শরীরের অবস্থা কিছুটা ভাল বোধ করতেছে অর্ক। গীটারটা নিয়ে নিজের অজান্তে ছাদে চলে আসে।

কেন জানি গীটার বাজাতে মন বসাতে পারতেছে না অর্ক নিজের কাছে খুব খারাপ লাগতেছে। কারো অনুপস্থিতি ভীষণ ভাবে মিস করতেছে সে।

নিজের মনকে প্রশ্ন করে অর্ক…….. তবে কি আমি মেয়েটার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়লাম? নাহ এইটা কোনভাবেই সম্ভব না। নিজেকে এলোমেলো মনে হচ্ছে…….

. সিগারেটে আগুন ধরিয়ে নে অর্ক চোখ বন্ধ করে সিগারেট টান দে……. মুহূর্তের মধ্যে অনুভব করতে পারে ওর ঠোঁটের মধ্যে থেকে সিগারেটটা হারিয়ে গেছে বাকিটুকু ঘূর্ণিঝড়…..

যে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পুরানো কষ্টগুলা হারিয়ে গেছে কালনীর শ্রুতে। অর্কের ঠোঁটে দুইটা কাপতেছে এখনও। কপালে কারো ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়াতে বাস্তবে ফিরে আসে অর্ক। অতঃপর……….

– হি, হি, হি মিস্টার অর্ক স্যার এখন থেকে সিগারেটের পরিবর্তে লিপিষ্টিক পাবেন যদি সিগারেট ছেড়ে দেন তো….. এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নেন কি খাবেন সিগারেট না লিপিষ্টিক?……

– লিপিষ্টিক (কাঁপাকাঁপা কন্ঠে)

– হি, হি, হি খাইয়ে দিতে পারি কিন্তু আমাকে অনেক বেশি ভালবাসতে হবে, গীটার বাজানো শিখাতে হবে।

– অনেক বেশি ভালবাসবো, গীটার বাজাতে শিখাবো যদি মৌমিতা হতে রাজী হও তো……

– হাতটা দাও……

– আউউউউচ উফপপ এইটা কি হলো?

– হি, হি, হি হাতঘড়ি লাগিয়ে দিলাম আমার দুষ্টু বাবুটাকে।

. কপালে ছোট্ট করে একটা চুমু একে দিয়ে

– (কান্নাজড়িত কন্ঠে) ভালবাসি তোমাকে ভীষণ, যাবে না তো কখনও আমাকে ছেড়ে?

অর্কের বুকের মধ্যে মাথা লুকিয়ে মৌমিতা ফিসফিস করে বলে উঠলো….. কখনও,কোনদিনও ছেড়ে যাবো না তোমাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here