মায়ের চিঠি

0
157

^^^^^^^^^^^^^^^^^^
মায়ের চিঠি
********************

** ** মাঃ বাবা কেমন আছিস, অনেক দিন হলো ফোন দিস না, শুনলাম শহরে নাকি ১০তলায় একটা বাড়ি কিনেছিস, দশতলায় আবার বাড়ি কিনে কেমনে।

** ** ছেলেঃ ঐটাকে বাড়ি বলে না ফ্লাট বলে, কবে যে গ্রাম্ম ভাব ছাড়তে পারবা। সেই আদি যুগের মানুষের মত। শহুরে পরিবেশ তো কিছুই শিখতে পারলা না এত দিনে ও।

** ** মাঃ শহুরে পরিবেশ শিখব কি করে বল, তোকে অনেক কষ্ট করে লিখাপড়া শিখিয়ে গ্রাম থেকে শহরে পাঠালাম। তোর লেখা পড়ার খরচ দিতেই তো অনেক কষ্ট হয়ে যেতো , তার-উপর শহরে যেতে-আসতে অনেক খরচ তাই আমি আর তোর বাবা কখনো শহরে গিয়েছি নাকি।

** ** ছেলেঃ হুম, শিখার ইচ্ছে থাকলে গ্রামে থেকে ও শহরের অনেক কিছু শিখা যায়। কাজের কথা বল আমার অনেক কাজ আছে।

** ** মাঃ তোর বাবা মারা গিয়েছে ৩ বছর হল, প্রতিমাসে ৩ হাজার করে যে টাকা তুই দিস, তার বেশির ভাগিই ঔষধ কিনতে চলে যায়। বুকের ব্যাথা টা অনেক বেড়েছে। খুব কষ্ট করে খাবারের খরচ চালাতে হয়।

** ** ছেলেঃ ফোন করার পরই বুঝেছি, তোমার আরো টাকা চাই, একবারে বল্লেই তো পারতা, এত ভনিতা করার কি আছে। পরের বার থেকে ২ হাজার বাড়িয়ে দিব।

– – – – ও হ্যা, শুনো, তোমার দাদু ভাই অনেক জেদ করেছে প্রথমবারের মত তোমার ঐ খানে যাবে তাই ২দিন পর ওকে আর ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিব ওদের যত্ন করো। ছেলের কাছে ওর খরচের টাকা দিয়ে দিব, তোমাকে আবার এক্সট্রা ভাবে কিছু চাইতে হবে না।

** ** মাঃ বাবা, ১৫ বছর হল বিয়ে করেছিস, বৌ মা তো একবার ও এলো না, তুই ও তো ৫ বছর পর পর আছিস, এইবার তোরা সবাই একসাথে আয়। আমার অনেক ভাল লাগবে।

** ** ছেলেঃ তোমার বৌমার গ্রাম ভাল লাগে না, আর আমার ও অনেক কাজ। তাই রাজু (ছেলে)একাই যাবে। অনেক পেচাল পেরেছ এখন রাখি আমার অনেক কাজ আছে। তোমার দাদুভাই ঠিক সময় তোমার ঐখানে চলে যাবে।

** ** মায়ের বুকের ব্যাথা আরো বেরে গেল,
“” “‘ ছোট বেলায় অশিক্ষিত ছেলেটা মায়ের কাছ থেকে যত কিছু শিখেছে,
বড় হয়ে শিক্ষার অহংকার ততটাই তাকে মূর্খ বানিয়েছে। “” “”

– – – – যথাসময় রাজু চলে আসলো, প্রথমবার দাদুকে দেখল,

** ** দাদুঃ তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছ দাদুভাই।

** ** রাজুঃ হুম, বাবা- মায়ের মতো শুধু বয়সে বড় হতে চাই না, মানসিকতায় ও বড় হতে চাই, ছোট বেলে থেকে অনেকবার আসতে চেয়েছি কিন্তু আব্বু আম্মু আসতে দেয় নি।

– – – – তাদের হয়তো কখনো মনে পড়ে না তারা ও একদিন বুড়া হবে, তাদের ছেলে ও তাদের মতো হতে পারে।

** ** দাদুঃ ঐভাবে বলতে হয় না, শত হলে ও তোমার বাবা-মা। আমি হয়তো আমার ছেলেকে ভাল শিক্ষা দিতে পাড়ি নি।

** ** রাতের খাবার শেষে রাজুর দাদুর বুকের ব্যাথাটা বেড়েছে।

** ** দাদুঃ দাদুভাই আমাকে একটা চিঠি লিখে দিবা।

** ** রাজুঃ হুম, আমার লিখতে না খুব ভাল লাগে..

** ** দাদুঃ কলম আর খাতা নিয়ে আসো

** ** রাজুঃ হুম,এনেছি বল

** ** ** ** ** ** ** দাদুঃ
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
প্রিয় কলিজার টুকরা ( তাসরিফ )

কখনো বুঝবি না কতটা ভালোবাসি তোকে, তাই তো বাঁচবো না স্বত্বেও ডাক্তার যখন বারবার বলতো অপারেশন করতে, তোকে কখনো বলতাম না।
তোর বাড়ি-গাড়ির ইনস্টলমেন্টের টাকা যদি না দিতে পারিছ।

তোর বাবার মৃত্যুর আগে তার চিকিৎসার পিছনে অনেক টাকা লেগেছে, তোর বাবা তো ভিটা-বাড়ি ছাড়া কিছু রেখে যায় নি, সেই চিকিৎসার টাকা কিভাবে শোধ করেছি জানিস, একটা এনজিও-র কাছে আমার মৃত্যুর পরে চোখ-কিডনি বিক্রয়ের স্বত্ব।
তারপর ও তোকে কিছু বলতাম না, তোর বিলাস বহুল জীবন যাপনের যাতে কোন সমস্যা না হয়।

তোর সাথে একটু বেশি সময় কথা বলতে চাইতাম কিন্তু তুই রাগ হয়ে কেটে দিতি।

*******———*******———*******———********

** ** রাজুঃ ও দাদু কথা বলছো না কেন। কি হয়েছে তোমার।

*** *** রাজুর দাদু হয়তো আর কোন দিন কথা বলবে না, আর কোন দিন তার ছেলেকে কথা বলার জন্য বিরক্ত ও করবে না।

লেখায়ঃ রায়হান আবির (আরমান)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here