পৃথিবী তখন সবে মাত্র কিশোরী।আমাদের দেখা হল অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে।

0
147

পৃথিবী তখন সবে মাত্র কিশোরী।আমাদের দেখা হল অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে।তুমি তখন বস্ত্রহীন টগবগে যুবতী।
তোমার শরীরের প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ আসেনি তখন । অর্কের তেজে কালচে মুখ তোমার গেরুয়া কোর্তার রঙা, সেদিন কিশোরী পৃথিবীকে সাক্ষী করে তোমায় ছুঁয়েছিলাম চোখ দিয়ে। অব্যর্থ শব্দে তোমায় ভুলানোর শক্তি তখন ছিল না আমার৷ তখন তুমি চোখে চোখ ছুঁয়ে উধাও হলে হুট করে। তখন গুঙিয়ে কাঁদতে জানতাম,চিৎকার করতাম অব্যর্থ শব্দে।বিলাপ করতে করতে তখন কাঁদতে জানতাম না বলেই তখন ভেতরটা এভাবে ফালাফালা হত।

পৃথিবী তখন কৈশরের শেষের পথে।
আমাদের দেখা হল বেঁদে পল্লীতে। সভ্যতা কিঞ্চিত ধরা দিয়ে তখন আদিম মানবের ঠোঁট ভরে মধুর কথা দিল। বেঁদে পল্লীতে আমাদের বাসর হয়েছিল উত্তরের ঘরখানায়। রাত্রি দ্বিপ্রহরে আমারে বিষে তুমি লাল হলে,আফসোস ওবেলায় সর্প বশীকরণ মন্ত্রে তোমার কাজ হল না৷ তুমিই ক্লান্ত নাগিনী হয়ে সাপুড়ের বুকে লেপ্টে রয়েছিলে পূবের কুসম সূর্যের চোখ রাঙানি অবধি৷

কিশোরী পৃথিবী উঠতি যুবতী তখন।
আমাদের অভিমান হল সম্রাটের ঘোড়াশালার পেছন দিকটায়৷ রাজ্যের সকল অভিমান তখন তোমার গালের টোলে৷রাগে তোমার লালচে নাকে সেদিন আমার হৃদযন্ত্রের ন্যায় ওঠবসে ব্যস্ত। যুদ্ধে গেলে জান যাবে এই ভয়ে তুমি কেঁদে ভাসালে সম্রাটের তাবৎ সাম্রাজ্য । তখন আমি টগবগে এক যোদ্ধা!যুদ্ধ আর প্রেম যে তখন আমার নেশার মত। আমার যুদ্ধ ছিল প্রথম প্রেম, আর তোমার ছিল আমি।হিসেবে তালগোল ঠিক এখানেই বেধেছিল। আমার ররক্তাক্ত মুখখানা বুকের সাথে জাপ্টে ধরে বলেছিলে “প্রেমিক তুমি পরজন্মে আর যাই হও যোদ্ধা হয়োনা”

পৃথিবী তখন ভরা যৌবনা। আমাদের দেখা হল জীবনানন্দের কবিতার মাঝে। তুমি তখন বনলতা।প্যাঁচার ক্রন্দন, শ্বেত বকের রোনাজারি সব কিছুকে সাক্ষী রেখে আমি কয়েকশ ক্রোশ হেটে বেড়িয়েছিলাম শুধু একটাবার তোমায় দেখব বলে৷দৈব বলে আলেয়া ছুঁতে শিখেছিলাম, ঋষির মুঠোয় কেউটে এনে দিতে শিখেছিলাম৷ অশান্ত পদ্মাও ততদিনে আমার বসে! অথচ কত যজ্ঞ করলাম,কত ক্রোশ হেটে বেড়ালাম৷ অথচ তুমি বনলতা অধরাই রয়ে গেলে!

পৃথিবী তখন প্রজ্ঞাময়ী রমনী।আমাদের দেখা হল তোমার ঘরের দখিনা জানালাতে। উদাস চোখ তখন তুমি জ্যোছনা বুনতে ব্যস্ত। জোনাক জ্বলা রাতে তুমি নিশব্দে কেঁদে চলেছো কয়েক কাল আমার অপেক্ষায় থেকে। পরনে তোমার আগুন রঙে শাড়ি৷ জানালার ফাঁক গলে আমার বাড়ানো আঙুল ছোঁবার আগেই তোমার স্বপ্ন ভেঙেছিল। সিঁথেনে থাকা বকুলের গন্ধে সেদিন তুমি মূর্ছা গিয়েছিলে। আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলামঃ-

“এবার থেকে কাজল কৌটায় দু ফোঁটা বিষ রেখো, চোখের জল পড়া মাত্রই আমি তা শুষে নিব।প্রেমিকার চোখের জলের চেয়ে মরণ ভালো”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here