গালি

0
171

রোযা অবস্থায় দেখছি এক অর্ধ বয়স্ক লোক রিক্সা চালাচ্ছে।এদিকে আমার ফাইনাল এক্সাম। যেভাবে হোক আমাকে নয়টার আগে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতেই হবে।কিন্তু রিক্সায় উঠে দেখি রিক্সা চলছে না।আসে-পাশের সব কিছুই ওভার টেক করছে আমাদেরকে কিন্তু রিক্সার কোনো গতিই নেই।এমন কি এক ভিখারী পঙ্গু লোকও রিক্সাটার অনেক পিছনে থেকেও অনেক এগিয়ে গেছে।তাই আমি রিক্সাওয়ালা কে বললাম–মামা!আমার এক্সাম আছে!প্লিজ জোরে চালান!
মামা বলল–না খেয়ে,রোযা রেখে রিক্সা চালাচ্ছি,তাই চালাতে পারছিনা।

আমি উনাকে জোর দিবো,সেই সুযোগও নেই।এদিকে এক্সাম এর দেরী হয়ে যাবে,সে ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগলো।অন্য রিক্সাও পাচ্ছি না।
তাই নিজেই মামা কে বললাম-মামা!আমি রিক্সা চালাই?
উনি বললেন-পারবেন,রিক্সা চালাতে?
আমি বললাম–না পারার কি আছে?এটাতো সাইকেল চালানোর মতই।

তারপর,রিক্সাওয়ালাকে নামিয়ে আমি রিক্সা চালাতে লাগলাম।কিন্তু রিক্সার প্যাডেল যতই জোরে ঘুরাচ্ছি রিক্সা চলছে না।এদিকে মামা পায়ের উপর পা তুলে রিক্সায় বসে আছেন।আমি এক্সামের কথা চিন্তা করে,কোমর উঁচু করে,জোর লাগালাম।আমার জিহ্বা বের হয়ে যাওয়ার অবস্থা।
মামা বললেন–তাড়াতাড়ি চালাও।আমার নইলে ক্ষতি হয়ে যাবে।
তারপর,রিক্সাতে সমস্ত বল দিয়ে চালাতে শুরু করলাম।’রিক্সাওয়ালা মনের সুখে গানও ধরলো–চলে আমার রিক্সা উইড়া উইড়া,ঢাকা শহর দেখমু ঘুইরা ঘুইরা।

এদিকে আমার মাথা ঘুরাতে লাগলো।তবুও এক্সামের ভয়ে রিক্সা জোরে চালিয়ে এক্সাম কেন্দ্রে সঠিক সময়ে চলে এলাম।
আমার ততক্ষণে শরীরের ঘামে গোসল করার অবস্থা। আমি তাকে একশ টাকা দিলে,উনি পুরোটা রেখে দিলেন।উনি বললেন–আরে,রোযাদারদের খুশি করলে,আল্লাহ খুশি হোন আর আল্লাহ খুশি হলে,পরীক্ষা ভালো হয়।
আমি বললাম–মামা!কিন্তু ভাড়া হল বিশ টাকা, বেশী রাখা তো অন্যায়!আর তা ছাড়াহ রিক্সা আমি চালাইছি।
মামা হেসে বললেন–আরেহ!রোজাদার কে এক টাকা দান করলে সত্তর গুণ সওয়াব হয় বেশী।আর আপনি তো আশি টাকা দান করলেন,তাহলে চিন্তা করেন আপনার কত সওয়াব হলো।

আমি সওয়াবের কথা চিন্তা করে কেন্দ্রে ঢুকে গেলাম।

এক্সাম দিয়ে বের হয়ে,রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম।পরিচিত দোকান একটাতে মোবাইল রেখেছিলাম,সেখান থেকে মোবাইল নিয়ে আবার চলতে থাকলাম।
কিন্তু আশার সময় দেখি,মামা!রিক্সার
উপরে বসে, মনের সুখে সিগারেট খাচ্ছে।আমি কাছে যেতেই উনি চমকে উঠলেন।
আমি প্রশ্ন করার আগেই উনি বললেন–মামা!সিগারেট খাইলে রোযা ভাঙে না।খাবেন নাকি আপনিও?

আমার তো মেজাজ বিগড়ে যেতে লাগলো।কিন্তু রোযার কারণে গালি-গালাজ দিতে পারছিনা।কারণ,গালিগালাজ মারামারি করলে রোযা হালকা হয়ে যায়,তাই।
আমি ফোন দিয়ে হিন্দু দুজন বন্ধু কে গালি দেয়ার জন্য ভাড়া করে নিয়ে আসলাম। ।
তারা দৌঁড় দিয়ে সেই স্থানে আসলে,ঘটনা খুলে বললাম। আরো বললাম–আমি তো রোযা।বন্ধু,তোরা তো হিন্দু তোরা গালি দিতে পারবি,এই লোক টা কে ইফতার অবধি গালি দে তো!ইফতারের পরে আমি দিচ্ছি।
তাদের কে বলার সাথে সাথেই বলল–হারামজাদা,কুত্তারবাচ্চা,রামছাগল,এই শালারবেটার শালা,হারামীর ঘরে হারামী
বলে কয়েক’শ রকমের গালি লোকটাকে দিতে লাগলো।

এমন এমন গালি দিলো যে,তা মনে হলো নতুন আবিষ্কার হলো।

একজন তো বাঁশ দিয়ে দৌঁড়াতে শুরু করলো।সে নাকি অনেকদিন বাঁশ দিয়ে রিক্সাওয়ালা মারে না।

তাদের মারামারি আর গালি দেখে ভাবতে থাকলাম–অন্তত রোযায় কাউকে গালি দেয়ার জন্য হলেও,অন্য ধর্মের বন্ধু থাকা দরকার।

#গালি
#আজিজুল_হক_শাওন।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here