গল্পঃ 💔নোংরামি ভালোবাসা💔

0
342

গল্পঃ 💔নোংরামি ভালোবাসা💔

Mohammad Shad

__________________
– বাবু আমি প্রেগন্যান্ট।
– ওহহ তাই ভাল তো।
– হুমম। কি করব এখন?
– তোমার পেটের বাবুর বাবা কে?
– মানে?
– তোমার এই প্রেগন্যান্সি হবার কারন কি? তোমার পেটের বাচ্চার বাবা কে?
– তুমি কি মজা করছো আমার সাথে।
– মজা করব কেন? আমি তো জাস্ট কিছু তোমার পারসোনাল বিষয়ে কথা জানতে চাচ্ছি।
– কেন তোমার মনে নেই তোমার ভালবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আমায় তোমার বিছানায় যেতে হয়েছে?
– তাঁর মানে তো এটা নয় যে আমিই এই বাচ্চা টার বাবা।
– মানে?
– অন্যকেউ ও তো হতে পারে এই বাচ্চার বাবা। যে মেয়ে আমার বিছানায় আসতে পারে সে তো অন্য কারোও বিছানায় যেতে পারে।
– তোমার কি আমায় দেহ ব্যবসায়ী মনে হয়?( কান্না জড়িত কন্ঠে)
– হুমম কেন মনে হবে না।
– তুমি এতো টা বাজে প্রকৃতির মানুষ সেটা জানা ছিল না।
– আমি সত্যি বলতে পিছু পা হয় না।
ঠাস ঠাস করে কয়েক টা থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে মেয়েটি চলে যায়।
আসলে মেয়েটির নাম রোজা। ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ার স্টুডেন্ট। আর ছেলেটি অনার্স ফাইনাল ইয়ার স্টুডেন্ট। তাঁদের ৪ বছরের রিলেশন। খুব ভাল জুটি তাঁদের। তাঁদের ফ্রেন্ড সারকেল এটা নিয়ে হিংসা করত। খুব ভাল ভাবে চলছিল তাঁদের রিলেশনশিপ। হঠাৎই রেজন রোজাকে রুম ডেট করার বিষয়ে বলে। কিন্তু রোজা রাজি হয় না। কিন্তু রেজনের জোড়াজুড়ি তে মেয়েটি তাঁর ভালবাসার প্রমাণ দিতে তাঁর শরীর কে বিলিয়ে দেয়।
কিছুদিন পরে মেয়েটি বুঝতে পারে সে প্রেগন্যান্ট। তাঁর পরের কাহিনী তো আপনারা জানেন ই
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে কিন্তু রোজার কান্না বন্ধ হয় না। এই স্বল্প সময়ে মেয়েটি যেন অনেক পরিমানে ভেঙ্গে পড়েছে। যাকে এতো বিশ্বাস করতাম আর সে আমার বিশ্বাসের মূল দিতে জানলো না।
রোজা সিধান্ধ নিয়ে বসে এই কলংক মাখা মুখ আর কাউকে দেখাবে না। আর ফ্যামিলি কে আমার জন্যে ছোট হতে হবে না।
রাত ১০ টা।
– ফ্যানের সাথে রোজা তাঁর ওড়না ঝোলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফ্যানের সাথে ওড়না ঝোলানো প্রায় শেষ হঠাৎই রোজার ফোনে একটা ফোন আসে। রোজা ফোন টা হাতে তুলে নিয়ে দেখে জান নামটা ডিসপ্লে তে ভাসতেছে। রোজার ইচ্ছা হচ্ছিলো ফোন টা আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার। কিন্তু কেন জানি মন বাধা দিল রোজার। ফোনটা রিসিভ করল রোজা।
– জান রে?
– রোজা কোন কথা বলছে না?
– জান রে কথা বল। খুশির সংবাদ আছে একটা ।
– কে বলছেন?
– মজা বাদ দাও।
– আমি মজা করছি না। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলাম মাঝ পাথে আপনি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
– তুমি সব কাজ ভুলে যাবে খুশির সংবাদ টা শুনে।
– কি খুশির সংবাদ ।
– বেলকনিতে আসো আগে ।

রোজা বেলকনিতে গিয়ে দেখল রেজন ল্যাম্পপোষ্টের নিচে গাড়ি দাঁড় করিয়ে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
– কি বলবেন বলেন?
– আজকে আমরা বিয়ে করতে যাচ্ছি।
– মানে?
– তুমি যখন আমায় বললে তুমি প্রেগন্যান্ট তখন আমি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ খুশি হয়েছি। সত্যি কথা তোমার কথা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হচ্ছিলো। মনের মধ্যে সেদিন যেন খুশির ঠেলায় নাচতে ইচ্ছা করছিল।
– তোমার আর আমার কথা সব আমার ফ্যামেলি কে বলেছি আমার ফ্যামেলি মেনে নিয়েছে বিষয়টা।
– তাইলে তখন ওইটা বললে কেন?
– আরে পাগল তুমি জানো না আমি একটু এইরকম ই? আর সকল কিছু ম্যানেজ করতে একটু সময় লেগে গেল।
— সত্যি বলছো তুমি ?
— হ্যাঁ গো , সত্যি সত্যি সত্যি ৩ সত্যি। জলদি আসো আমার ফ্রেন্ডরা আমাদের জন্য ওয়েট করছে
—- আমি এখনি আসছি যান , I love you

রোজা এক দৌড়ে রেজনের সামনে চলে এসে রেজনকে জড়িয়ে কান্না করে দেয়। তবে এটা দুঃখের কান্না না আনন্দের কান্না।

সব ছেলেরা যেমন এক নয় তেমনি সব মেয়েরাও এক নয় ।
কিছু কিছু ছেলে- মেয়েদের জন্য আজকে গল্পটা লেখা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here