গল্পঃকবি

0
364

সার (স্যার) আপনার আসতি কোন কষ্ট হয়নি তো? আমাগের এইদিক দিয়ে রাস্তাঘাট এত ভাঙ্গা যে কারোর ই কোমর ভাইঙ্গে যাবে , তাপস এবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুপ করে গেল। আমি কবি ভাব নিয়ে চারপাশ দেখে নিচ্ছি, তাপসের কোন কথার উত্তর না দিয়ে বুঝিয়ে দিলাম আমি ভাবুক প্রকৃতির আর অপ্রয়োজনে কথা বলিনা, সেই সাথে এই সন্দেহও জাগল “এমন ভাব ধরে রাখতে পারব তো”?

তাপসের গর্ভবতী স্ত্রী মৃদুলা শাড়ির আঁচলের অর্ধেক দাঁতের সাথে আটকে রেখে জানালার ফাঁক দিয়ে অতি সাবধানী দৃষ্টিতে আমাকে দেখছে। আমি যে মেয়েটাকে দেখেছি এটা বুঝে ফেললে সে লজ্জা পাবে তাই দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলাম।

যশোরে এসেছি কয়েকটা বইমেলায় নিজের বই বিক্রির উদ্দেশ্যে। কোন প্রকাশনী আমার হয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বই বিক্রি করবেনা তাই যা করার আমাকেই করতে হচ্ছে। সর্বসাকুল্যে আমার বইয়ের এগারো কপি বিক্রি হয়েছে, এখনো তিনশ সত্তর কপি বই হাতে আছে। যশোরের কোন হোটেলে থাকব, খাবো, ঘুরবো এমন সামর্থ্য আমার নেই। পকেটে আছে সাতশ টাকা মত এই টাকা দিয়ে গোটা মাস পার করতে হবে যে। বন্ধুর মাসির দুঃসম্পর্কের আত্নীয় এই তাপস, যশোর রেলওয়ে স্টেশনের অনেক পুরোনো মুচি।

মাগরীবের আযানের সময় ঘুম ভাঙল, সূর্য ডুবে গেছে কিন্তু আকাশটা বেশ লাল দেখাচ্ছে এখনো। আমাকে যে ঘরটায় থাকতে দেয়া হয়েছে সে ঘরের চালটা পলিথিনের, তাই শুয়ে শুয়েই স্পষ্ট রক্তিম আকাশ দেখতে বাইরে বের হতে হচ্ছেনা।

“অখিলে তুমি বিছাইয়াছো প্রণয়িনীর লাল বেনারসি
ব্যাকুল এই যাযাবরের অভিশাপে আগুন ধরুক তার আঁচলে!

প্রেয়সী ভস্ম হোক, উন্মাদ হোক প্রতারনার দায়ে!
হে ঈশ্বর শ্বাসরোধ হোক তোমার এই সৃষ্টির, ভালবেসে যারা দূরে ঠেলে নিশ্চিহ্ন হোক তারা!

অখিল তুমি মেঘ ডাকো, হোক আজ বর্ষা! হোক কালবৈশাখী আমি এক মুঠো শান্তি চাই, আমি একশবছর ধরে মরতে চাই তবুও চাইনা ঐ লাল বেনারসি!

নাহ! ইদানীং কবিতাও হচ্ছেনা, কী আবোলতাবোল পঙক্তি আসছে মাথায়। এ কবিতায় ভাত পাবেনা কবি সাহেব ভাত পাবেনা। নিজের অভিভাবক আজকাল নিজেই হয়ে উঠেছি! ব্যাপারটা খুব উপভোগ্য।

দাদা কি ঘুমোয় আছেন এখনো? আপনার জন্যি এক কাপ চা কইরে আনলাম, দরজাডা একটু মেলেন। দরজা খুলে দেখলাম মৃদুলা একখানা পুরোনো স্টিলের গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, গ্লাসের দিকে আমার তাকিয়ে থাকা দেখে মৃদুলা মিনমিন করে বলল, কাপ নেই তো তাই গ্লাসে কইরে আনিছি। আমি দ্রুত গলায় বললাম “আমার স্টিলের গ্লাসে চা খেতে খুব ভাল লাগে, চা গরম থাকে সাথে হাতও… হা হা হা” মৃদুলা আমার হাতে গ্লাসখানা দিয়ে দৌড়ানোর মত হেঁটে বড় মাটির ঘরটায় চলে গেল।বাহ! তেজপাতা আর এলাচের কম্বিনেশনে এমন চা আজ ই প্রথম খেলাম। চারদিকটা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে আছে ঠিক যেমনটা ছিলেন অঙ্কের ওয়াদুদ স্যার।স্যার সারাক্ষণই গম্ভীর মুখ করে রাখতেন, অঙ্কতে কেউ একশতে একশ পেলেও স্যার গম্ভীরভাবে বলতেন “এত কাটাকাটি কেন করেছিস হারামজাদা”!। গম্ভীর কোন কিছু দেখলেই স্যারের কথা মনে পড়ে যায় আমার।

আমি যশোরের হামিদপুরে এসে উঠেছি। স্টেশন থেকে তিন মাইল দূরে। তাপস ফজরের আযানের সময় বেরিয়ে যায় আর ফেরে এশার আযানের পর। গত দুদিন ধরে আমি তার বাড়িতে আছি, সে তার স্ত্রীকে কোন ভরসায় আমার মত এক অপরিচিতর সাথে রেখে যায় সে হিসেব তার ঈশ্বর ই জানে। কবিরা চরিত্রহীন হয় এমন আওড়ানো বুলি হয়তো তাপসের জানা নেই, জানলে বোধহয় তাপস এই দুঃসাহস দেখাতো না। রাজশাহীর বইমেলা আর শুরু হয়ে গেছে, আজকালের ভেতর ই রওনা দিব ভাবছি।

মৃদুলা বারান্দায় বসে এক নাগাড়ে শুকনো লঙ্কা বেটে যাচ্ছে। পেয়াজ বাটার সময় এক নাগাড়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল তার চোখ থেকে, একবারের জন্যও সেই পানি মোছেনি মৃদুলা। আমি উঠোনে রাখা খেজুরের পাতায় বোনায় পাটিতে বসে আছি । মৃদুলা বাটিতে মরিচের চাশনি রেখে কল থেকে হাত ধুয়ে সোজা আমার কাছে এসে মাথা গুঁজে বলল “দাদা উত্তর পাড়ার শমসেরের দুকান থেকে একটা ডিম আনতি পারবেন”? এই বলে দশ টাকার একখানা লাল নোট বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। একটা ডিম দিয়ে কী করবে মৃদুলা? মৃদুলা নরম সুরে বলল “আমরা লঙ্কার চাশনি দিয়ে খাতি পারব, আপনার তো অভ্যাস নেই তাই ডিম ভাইজে দিতাম আপনারে ”

কৃত্রিম কাশি দিয়ে বললাম “তোমাদের চেয়ে চাশনি আমার বেশি লাগবে দেখো” মৃদুলা দশ টাকার নোটটা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ঢেকে ফেলল।

চারদিকে ঝিঝি পোঁকা একনাগাড়ে ডেকে চলেছে,ছোটখাটো এক জঙ্গলের মাঝেই তাপসের বাড়ি। কেরোসিনের অভাবে কুপিটা নিভু নিভু করে জ্বলে চলেছে, প্লাস্টিকের গামলায় গরম ভাতের ধোঁয়া উড়ছে, বাটিতে রাখা লাল টকটকে চাশনির দিকে তাকিয়ে আছে তাপস। তাপস আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। পরিস্থিতি গম্ভীর হতে যাচ্ছে দেখে আমি খপাত করে এক খাবলা চাশনি উঠিয়ে নিয়ে ভাতের সাথে মেখে খেতে শুরু করে দিলাম। তাপস এবার বুকে সাহস পেল, আমার দেখাদেখি তাপস ও চাশনি তুলে নিয়ে খেতে শুরু করে দিল। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে মৃদুলাকে চাশনিতে লবণ দিতে দেখিনি অথচ লবণ যে দেয়া হয়েছে সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এই লবণের উৎস আমরা পুরুষরা কয়েক মহাকাল ধরেও খুঁজে পাবোনা।

সার (স্যার) ফজরের আযান হয়ে গেছে, আপনি কইলেন (বলেছিলেন) ভোরের ট্রেনে রাজশাহী যাবেন। বাইরে থেকে তাপসের বিনীত গলার আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেল, তেল চিটচিটে বালিশটাকে ছেড়ে একদমই উঠতে ইচ্ছে করছেনা তবুও উঠতে হল। চুলো থেকে কয়লা এনে তাপস আমার দিকে বাড়িয়ে দিল, কয়লা মুখের ভিতর কড়মড় করে চিবুতে চিবুতে তাপস বলল ” সার তাড়াতাড়ি দাঁতটা মাইজে নেন, আমি চইলে যাব বাজার করতি আপনার ট্রেনে উঠোয় দিয়ে ” আঙুল দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে আবার বলল “রাত্তিরে হাটবাজার ছিল না বইলে লঙ্কার চাশনি দিয়ে খাতি হইছে, আপনি বিকেলের ট্রেনে ফিরে আসলি চারটে ভালমন্দ এক সাথে বইসে খাবানে “। তাপসের চোখ দুটো চকচক করছে, তাপসের কাছে আমি মহাজ্ঞানী মানুষ! অথচ আমি জানি সাহিত্যর বাজারে আমি এখনো মুচি হওয়ার যোগ্যতা রাখিনা, সেখবর তাপসকে জানতে দিলেই কয়েক কপি বই বিক্রি হতে আমাকে বঞ্চিত হতে হবে, কোন শব্দব্যবসায়ীই সেটা চাইবেনা।

সত্তর কপি বই নিয়ে গিয়েছিলাম বইমেলায়, আটকপি একদিনেই বিক্রি হবে সেটা আমার ধারনার বাইরে ছিল। এক বৃদ্ধ এসে আমার বই খানিকক্ষণ নেড়েচেড়ে বলল “তেরো নম্বর কবিতাটা পড়ে শোনাও তো”

“নৈশপ্রহরীর টর্চের আলোয় আমি দিকহারা;বেলের কাটায় পা আমার এফোঁড়ওফোঁড়!

নীলিমা অপেক্ষারত গঞ্জের স্টেশনে হাতে তার একখনা লাল টকটকে ব্যাগ।
পরনে তার বেগুনি শাড়ি,
নীলিমার নাক ঘামছে, কপাল কুচাকাচ্ছে!
এক মহাকাল জুড়ে নীলিমা আমি নামক পানীয়র তৃষ্ণায় কাতর!

শেষ রাত্তিরের ট্রেন ছেড়েছে স্টেশন, নীলিমা চোখ মুছছে, নাক ফোলাচ্ছে!
নীলিমা কয়েক জনম ধরে অপেক্ষারত!
নীলিমার ক্রন্দন চিৎকারে সদ্য ফোঁটা চড়ুই ছানা মাকে আকঁড়ে ধরে!
ভালবাসা বাসি তার ভালবাসাকে খোঁজে
আফসোস নীলিমা তবুও একা বসে থাকে!

এতটুকু শোনার পর বৃদ্ধ আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন “তোমাকে বললাম কবিতা শোনাতে, আর কীসব শোনাচ্ছো”! বৃদ্ধা বইটা চটের বস্তার উপর ছুড়ে মেরে বললেন “পরজন্মে বোবা হয়ে জন্মাস অন্তত এই অত্যাচারটা থেকে সকলে রেহাই পাবে” বৃদ্ধর কথায় মন খারাপ হলেও খানিকক্ষণ পরে কয়েকজন লোক এসে শ খানেক ছবি তুলেছিল আমার বইগুলো নিয়ে, তারাই আট কপি বই কিনে নিয়েছে, এতেই মনটা ভাল হয়ে গেছে।

দাদা এত দেরি হল যে? আর বলোনা ভাই পথ ভুলে গিয়েছিলাম। তাপস হো হো করে হেসে উঠে বলল “কবিরা মনভোলা সে এতদিন শুধু শুনেই আইছি বুঝলে মৃদু”! মৃদুলা ঠোঁট টিপে হেসে ঘরের ভেতরে চলে গেল। মৃদুলা আজ মাঝারি সাইজের এক রুই মাছের কালিয়া রেঁধেছে, অন্যদিনের মত মুখটা গম্ভীর নেই। আজ খানিকক্ষণ পর পর সে ফিক করে হেসে উঠছে। দরিদ্র অল্পতেই তুষ্ট বলে তারা সুখী, আমারো ঠিক এমন সুখী হতে ইচ্ছে করে। ইশ আমার বইগুলোর যদি তিনশ কপির বদলে দেড়শ কপি বিক্রি হয়ে যেত তাহলে আমার চেয়ে বেশি সুখী কেউ হত না। দাদা আরেক টুকরো মাছ দেই? মৃদুলার কথায় ভাবনা জগতে ছেদ পড়ল।

মাঝ রাত থেকেই হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি পড়ছে, ঘুম ভেঙেছে গায়ের উপর পানি পড়াতে।টর্চ জ্বালিয়ে দেখলাম পলিথিনের বেশ কয়েক জায়গায় ছিদ্র হয়ে আছে। ঘরে একটা তেল চিটচিটে বালিশ, একটা বিছানো কাঁথা আর গায়ে দেয়া কাঁথাটা বাদে আর কিছুই নেই। এই মাঝ রাত্তিরে তাপসদের ঘরে যেয়ে কয়েকটা বাটি আনা দরকার, তাতে বিছনাটা ভিজবেনা কিন্তু এত রাতে যাওয়াটা কী ঠিক হবে? সাতপাঁচ না ভেবে তাপসদের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালাম। ঘরের ভেতর থেকে ফিসফিস করে কথা বলছে দুজন।

তাপস: আমাগের মাইয়ে হবে দেইখো তুমি

মৃদুল:না, ছাবাল হবে।

তাপস:আচ্ছা যা হবার হোক, মৃদু তোমার শাড়িও ছিঁড়ে গেছে। একখান শাড়ি কিনে দিবানে কয়ডা দিন পর।

মৃদুল: শোন, আমার শাড়ি ফাড়ি লাগবিনা, দাদার খাওয়াদাওয়া যেন সমিস্যা না হয় সিডা(সেটা) দেখলিই হবে।

তাপস: সে তোমার বলতি হবেনা, আমি দুপারবেলায় আধ প্লেট ভাত খাই। আমাগের বাবুর জন্য, দাদার জন্য একটুখানি কষ্ট করলে ভগবান ও খুশি হবে। বউ শোন…

মৃদুলা: হ্যা কও

তাপস:একটু কাছে আসো…

উঠোনে প্রতি ফোটা বৃষ্টির সাথে সমানুপাতিক হারে নোনা জল ঝরে পড়ছে, কত বিশাল মেঘ খন্ড এই বুকে পুষে রেখেছিলাম এতদিন আমি! ভবঘুরে আখ্যা দিয়ে বড় দাদা ভিটে ছাড়া করেছিল সেই বছর ছয়েক আগে। বাবা মারা গেছেন এর মাঝে অথচ কেউ কোন সংবাদ দেয়নি আমায়! ছাত্রাবাসে কাটিয়েছিলাম বছর তিনেক, এর মাঝে প্রেমে পড়েছিলাম নেহার, নেহার শ্বেত শুভ্র চাহনী আর নিষ্পাপ চাহনীতে আটকে গিয়েছিলাম বৈশাখের রমনার বটমূলে। সেখান থেকেই পরিচয়, পরিচয়ে ক্রমে ক্রমে রঙ ধরে। আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে সোডিয়াম লাইটের আস্ত শহরটা ঘুরে বেড়াতাম দুজন। নেহা একদিন বিকেলে এসে বলল তার জন্য দেখাশোনা চলছে আমার যা করার তিনদিনের ভেতর যেন করি।

অনেক আশা নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিলাম,দাদা গেটের বাইরে থেকে দারোয়ান দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন। মানুষের মুখে শুনেছিলাম বাবা নাকি দাদাকে সবকিছু লিখে দিয়েছিলেন। শোনার পর বিশ্বাস করিনি, উকিল শ্যামল কাকুর মুখ থেকে সত্যটা জেনে ছুটে গিয়েছিলাম নেহার কাছে। নেহাকে সবকিছু খুলে বলেছিলাম, নেহা বলেছিল যাই হোক সে আমার পাশে আছে। সেদিন যে কতখানি খুশি হয়েছিলাম সে খবর ঈশ্বর বৈ আর কেউ জানেনি। সুখগুলো বালির বাঁধের মত, হুড়মুড়িয়ে পড়ে যায়। নেহার বাবা কড়া গলায় জানিয়ে দিয়েছিলেন এমন পরিচয়হীন ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে পারবেন না। পৃথিবীর কোন বাবার ই সেই সাহস হবেনা যে, নেহার হাত দুটো শেষবারের মত শক্ত করে ধরে বলেছিলাম “কুলির কাজ করব কবিতা ছেড়ে, চল নেহা আমরা বিয়ে করে ফেলি ” আদর্শ সন্তান আর আদর্শ প্রেমিক/প্রেমিকা এই সমাজে এক সাথে হওয়া যায়না। নেহা আদর্শ সন্তান হয়েছিল, যেটা আমিও চাইব আমার সন্তানের কাছে। এত বছর পর কেন আজ নেহাকে মনে পড়ল আমার? মন এবেলায় উত্তর দিতে পারেনা।

শেষ রাত্রে কখন বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের ই পাইনি। মৃদুলার চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল। তাপস গায়ে হাত দিয়ে বলল “দাদা ঠিক আছেন তো”? আপনি এখানেই বা কেন? নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম “কোন এক বৃষ্টির রাতে মাটির বারান্দায় ঘুমানোর খুব ইচ্ছে ছিল তাই আরকি” মৃদুলা ফিক করে হেসে দিয়ে বলল “দাদা আর কী কী ইচ্ছে করে আপনার”? মৃদুলা উত্তরের আশা না করে ঘরে ঢুকে গেল, নিজেকে আজকাল ছোটখাটো অভিনেতা মনে হয়।

যশোরের বইমেলায় এসেছি দুইশকপি বই নিয়ে।শেষ রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম “দেড়শ কপি বই বিক্রি হয়ে গেছে ” শেষ রাতের স্বপ্ন সত্যি হয় শুনেছি, মনটা বেশ ফুরফুরে সকাল থেকেই। খোলা এক জায়গায় চটের বস্তার উপর বই নিয়ে বসেছিলাম, কোথা থেকে কয়েকজন লোক এসে বলল “স্টল ছাড়া বসা নিষেধ, আপনি যেহেতু বই নিয়ে বসেই গেছেন তাহলে তিন হাজার টাকা দেন ” এক কপি বই ও বিক্রি হয়নি, আর আমার কাছে একশ টাকা ছাড়া কোন টাকা নেই এই কথাগুলো তারা বিশ্বাস ই করেনি! তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আমাকে ওরা সবাই মিলে মারতে শুরু করেছিল। জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম চারটে উৎসুক চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওরা আমার বইগুলো নিয়ে গেছে।

আমাকে যে ঘরটায় থাকতে দেয়া হয়েছিল সে ঘরটার বালিশের নিচে পনেরোশ টাকা রেখে এসেছি, সাথে একটা দুই লাইনের চিরকুট ও রেখে এসেছি :-

“মৃদুলাকে একখানা বেগুনি রঙের শাড়ি কিনে দিও, তোমার জন্য কিছু কিনে নিও”

রেল স্টেশনে বসে আছি, টিটি আমাকে দেখেই প্রশস্ত হাসি দিয়ে বললেন “কবি ভাই আপনি ট্রেনে উঠে পড়েন, টিকিট আমি দেখবানে”। ট্রেন চলছে ঢাকার অভিমুখে, চাঁদটাও পাল্লা দিয়ে আমার সাথে করে চলছে। ভেতর থেকে কে যেন বলল –

ঈশ্বর তুমি কৃপা করে পরজন্মে আমায় মুচি বানিও, একখানা মাটির ঘর দিও।
একখানা লক্ষী মৃদুলা দিয়ে আমায় সকাল সন্ধ্যে পূজো নিও।

ভালবাসার এক সমুদ্দর দিয়ে উজাড় করে ভক্তি নিও।
ঈশ্বর তুমি মহান হয়ে পরজন্মে আমায় মুচি বানিও!

গল্পঃকবি

(বছরখানেক আগে লেখা।পূর্বে অপরিপক্কতা বর্তমানের তুলনায় বেশিই ছিল। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

লেখাঃBorhan Uddin

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here