ক্লাসে ম্যাডাম ঢুকেই বলল, ” শ্রাবণ তুই নাকি সাদিয়াকে প্রেমপত্র দিছিস! সাদিয়া তোর প্রেমপত্র পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে।”

0
212

ক্লাসে ম্যাডাম ঢুকেই বলল, ” শ্রাবণ তুই নাকি
সাদিয়াকে
প্রেমপত্র দিছিস! সাদিয়া তোর প্রেমপত্র পড়ে
অজ্ঞান
হয়ে গেছে।” ম্যাডামের কথা শুনে শ্রাবণের
কলিজাশুকিয়ে
গেলো। সাদিয়া ম্যাডামের একমাত্র মেয়ে।
ডাইনী মায়ের
একমাত্র আদরের সন্তান। ম্যাডাম আবার বলল,
“কিরে তুই
উত্তর দিচ্ছিস না কেন”? ভয়ে শ্রাবণের পায়ে
কাঁপাকাঁপি শুরু
হয়ে গেলো। যেকোনো সময় প্যান্ট নষ্ট
করে ফেলার মতন
অবস্থা।
জীবনে কখনো ম্যাডামের ক্লাসে পড়া
দিয়েছি বলে মনে
পড়ে না। ম্যাডাম এমনিতেই আমাকে দেখতে
পারে না।
তার উপর তার মেয়েকে প্রেমপত্র দিয়েছি,
সেটা পড়ে
বেচারি অজ্ঞান। ম্যাডাম আমার অবস্থা আজ কি
করবে
সেটা বুঝার বাকি রইলো না। মনে মনে বিপদের
দোয়া
পড়ছি আর নিজের বুকে ফুঁ দিচ্ছি। আল্লাহ এবারের
মতন
আমাকে বাঁচাও এরপর থেকে সাদিয়াকে নিজের
বোনের
চোখে দেখবো।
ম্যাডাম আস্তে আস্তে এগিয়ে এলো আমার
দিকে।ক্লাসের
সবাই সার্কাস দেখার অপেক্ষায় আমার দিকে
তাকিয়ে
আছে। ম্যাডাম আমার কাছে এসে চিঠিটা আমার
হাতে
দিয়ে বলল, ” পড়ে শোনা”। ম্যাডামের কথা
শুনে এবার গলা
পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ। আমি লজ্জায় নিচের দিকে
তাকিয়ে
আছি। ম্যাডার তার ডাইনী কণ্ঠে চিৎকার করে
উঠে বলল,
“এক্ষণ পড়ে শোনা বলছি।”
আমি চিঠি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলাম।
কলিজার বোঁটা সাদিয়া,
কেমন আছো তুমি? জানি তুমি ভালো নেই।
তোমার ডাইনী মা
৪৫ মিনিটের ক্লাসে আমাদের যে অবস্থা করে!
আল্লাহ
জানে সারাদিন তোমার উপর ঐ ডাইনীটা কতো
নির্যাতন
চালায়। তুমি বললে আমি উনার বিরুদ্ধে মামলা
করবো।
প্রথমদিন তোমাকে দেখেই আমার বুক
কেঁপে উঠেছিল। সেই
কাঁপুনিতে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ
কেঁপে
উঠে। অথচ মানুষজন বলে সেটা নাকি ভূমিকম্পের
কারণে।
কাউকে বিশ্বাস করাতেই পারিনি ওটা আমারি বুকের
ভূমিকম্প।
তুমি জানো সারাদিন শুধু আমি তোমার কথা ভাবি।
এতো
ভাবনা যদি আমি গণিতের প্রতি দিতাম তাহলে
আইনস্টাইনের মতন আমারো পকেটে দুইচারটা
নোবেল
থাকতো। কিন্তু দেখো আমি নোবেলের কথা
চিন্তা না করে
শুধু তোমার কথা চিন্তা করি। কিন্তু তোমার ডাইনী
মায়ের
জন্য চিন্তাটাও ঠিকমতন করতে পারি না। হঠাৎ করে
তোমার মা আমার চিন্তার মধ্যে এসে আমাকে
লাঠিপেটা
করে আর বলে ” ঐ তুই আমার মেয়েকে
নিয়ে চিন্তা করিস
কেন?”
সেইদিন স্বপ্নে দেখি তোমাকে নিয়ে চাঁদে
যাচ্ছি
হানিমুন করতে। রকেটে আমি আর তুমি লুকোচুরি
খেলছি।
এরমধ্যে কোথা থেকে যেন তোমার মা
এসে রকেটের ইঞ্জিন
বন্ধ করে দিয়ে বলে, ” এবার খেলা হবে।”
বিশ্বাস করো সাদিয়া, তোমার কথা মনে হইলেই
এই হৃয়দের
মধ্যে এনার্জি বাল্ব জ্বলে উঠে। তুমি আবার
ভেবো না আমি
৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব ১০০ টাকায় কিনেছি শুধুমাত্র
কোম্পানির প্রচারের জন্য।
আমি ফিলিপ্স বাল্বের কথা বলেছি। যা দিবে
তোমাকে
শতভাগ আলো ও দীর্ঘদিনের গ্যারান্টি।
সাদিয়া বিশ্বাস করো এই মনে!!….”
হঠাৎ ধপাস করে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ পেলাম।
সামনে
তাকিয়ে দেখি ম্যাডাম অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে
গেছে।
সবাই মিলে দৌড়াদৌড়ি করে ম্যাডামকে তুলে ডাক্তার
ডাকতে গেলাম।
ম্যাডামের জ্ঞান ফিরলে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম
আমাকে
ডেকে পাঠালেন। উনি বললেন,” তুমি নাকি
ম্যাডামের
মেয়ে সাদিয়াকে চিঠি দিয়েছ। কি ছিল সেই
চিঠিতে
দেখি চিঠিটা আমাকে দেও।” আমি ভয়ে ভয়ে
প্রিন্সিপ্যাল
ম্যাডাম কে বললাম “আগে এখানে ডাক্তারকে
ডাক দেন
ম্যাডাম।”
এতদূর যখন
এসেছেন, তাহলে একটা Cmnt
তো চাই।
add me

Collected

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here