এক_রাতের_ভালবাসা

0
127

এক_রাতের_ভালবাসা

#writer Md_Raihan_hossain_roman



– এই মেয়ে এতো রাতে আমায় এখানে ডেকেছো কেনো? তুমি জানো না নির্জনে কোনো পুরুষের সাথে দেখা করাটা মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক?
– আমার ভেতরে কোনো ভয় নেই, আমি জানি তুমি অন্য ছেলেদের মতো নও। তাইতো তোমার কাছে নির্ভয়ে এসেছি!
– কি বলবে জলদি বলো, বিয়ে বাড়ি এমনিতেই লোকজনে ভর্তি। কেউ দেখে ফেললে ঝামেলা হয়ে যাবে
– ভালোবাসি….
– সমস্যা নাই তো কোনো, যাকে ইচ্ছা বাসো না!
– তোমাকে!
– কি?
– ভালোবাসি
– মানে?
– তোমাকে ভালোবাসি….
– তুমি কি পাগল?
– না পাগলি…
– তুমি কি এখন যাবে? নাহলে কিন্তু…
– নাহলে কি করবে?
– তোমাকে কিন্তু ইয়ে করে দিবো হুম…
– ইয়ে কি ?
– ইয়ে মানে ইয়ে…
– তো করো তোমার ইয়ে? আমি কিছু বলবো না…….কি হলো চুপ করে আছো কেনো???
হঠাৎ এক দমকা বাতাস এলো। ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃত নাকি কাকতালীয় বুঝতে পারলাম না, নিরুপমার ওড়নাটা পড়ে গেলো। আমি হাত দিয়ে চোখ ঢাকলাম।
– হিহিহি….
হাতের দু আঙুল ফাক করে দেখলাম মেয়েটা হাসছে, ওড়নাটা এখন যথাস্থানেই শোভা পাচ্ছে। তাই চোখ থেকে হাতটা নামালাম।
– হাসছো কেনো?
– যেই ছেলে কিনা এতটুকুতেই চোখে হাত দেয় সে কিনা আবার ‘ইয়ে’ করবে বলে আমাকে হুমকি দেয়! হিহিহি…. আমি জানি তুমি এমন ছেলে হতেই পারো না। তাইতো তোমার প্রেমে হাবুডাবু খাচ্ছি!
– আমি যাচ্ছি….
মেয়েটা আমার হাত ধরে ফেললো। মনে হলো আমার শরীরে পাঁচশ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক লেগেছে।
এদিকে আকাশের অবস্থা ভালো না, ঠান্ডা বাতাস বইছে, থেকে থেকে বিজলী চমকাচ্ছে। যে কোনো সময় তুমুল বৃষ্টি শুরু হবে।
– শামীম আমার উত্তর না দেয়া পর্যন্ত আমি তোমাকে ছাড়বো না। হ্যা না কিছু একটা বলতে হবে!
– তুমি কি আমাকে জোর করছো নিরুপমা?
– ধরে নাও তাই
– এটা কি ঠিক হচ্ছে?
– হ্যা হচ্ছে, প্রেম আর যুদ্ধে অন্যায় বলে কিছু নেই। দরকার হলে জোর করে আমি আমার ভালোবাসা আদায় করে নিবো। এটা অন্যায় নয়, যা করছি আমার ভালোবাসার জন্যই করছি….
– দেখো নিরু সেই ছোট্ট কালে তুমি আমায় দেখেছিলে, ছোটো বেলা দুজন একসাথে কতো খেলা করেছি। তারপর পড়াশোনার জন্য তো এতোদিন বিদেশেই ছিলে। এতোদিন পর আজকে আমার সাথে দেখা। বলতে গেলে আজই প্রথম আমাকে দেখলে কারন এতোবছর আগের কথা তোমার মনে থাকার কথা নয়। তোমার বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান নাহলে হয়তো এই দেখাটা ও কোনোদিন হতো না। কারন তোমার সাথে আমার আত্নীয়তাটা খুব কাছের নয়। আমরা দুর সম্পর্কের কাজিন। আজ এতো বছর পর তোমাদের বাসায় আসলাম গায়ে হলুদে এটেন্ড করতে আর তুমি কিনা এক রাতেই আমাকে ভালোবেসে ফেললে?
– এই ছেলে, তুমি জানো না? ভালোবাসার জন্য অনন্ত কাল নয় একটা মূহুর্তই যথেষ্ঠ!
– তা কি এমন দেখলে আমার মাঝে যে এতো হ্যান্ডসাম ছেলে থাকতে আমার প্রেমেই পড়লে?
– যখন তোমার চোখে চোখ পড়েছিলো তখনই সেই চোখের গভীরতায় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। তোমার হাসি, তোমার কথাবার্তা যেন আমার খুব চেনা। তারপর মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি তুমি আমার ছোটোবেলার সেই শামীম। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্তগুলো কাটিয়েছি আমি তোমার সাথে, আমার ছেলেবেলা রঙিন করে তুলেছিলে তুমি। এসব কথাগুলোই এতোদিন পর মনে পড়ছে, আর সেই সাথে তোমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। আর হলুদের পার্টিতে সব ছেলেরা যখন মেয়েদের সাথে নাচছিলো তখন তুমি ভদ্র ছেলের মতো চুপচাপ বসেছিলো। মেয়েরা শত টানাটানি করেও তোমাকে নাচাতে পারে নি। এই জিনিসটা আমার খুব বেশি ভালো লেগেছে। আমি বুঝে গেছি তুমি ছোটো বেলার সেই লক্ষী শামীমটাই আছো একটুও বদলাও নি!
নিরুপমার কথা শেষ হলো না, শুরু হলো প্রবল বাতাস। সেই সাথে বৃষ্টি
– নিরু ঘরে চলো ভিজে যাচ্ছো তুমি…
– না আমার উত্তর না পর্যন্ত আমি যাচ্ছি না!
– উত্তরটা পরে দিলে হবে না?
– জি না, আগামীকাল দাওয়াত খেয়ে সবাই যার যার মতো চলে যাবে, তুমিও তো যাবে। যা বলার আজ এখনই বলতে হবে। তোমার উত্তর যদি ‘হ্যা’ হয় তাহলে আজকের পরও আমাদের যোগাযোগ থাকবে আর যদি উত্তর ‘না’ হয় তাহলে আজই আমাদের শেষ কথা, আর কোনোদিনই হয়তো কথা হবে না। আমি ভুলে যাবো আজকের রাতটার কথা।
ততক্ষনে আমরা কাকভেজা হয়ে গেছি। এখন আর তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই। যা বলার ধীরে সুস্থে বলতে হবে। এখন আমার ভেতর ও কেমন জানি একটা প্রেম প্রেম ভাব জাগছে। এজন্য কি বৃষ্টি দায়ী?
রাত আড়াইটার সময় দুইজন যুবক যুবতী বৃষ্টিতে ভিজছে। ব্যাপারটার মধ্যে বেশ একটা ফিল্মী ভাব আছে। আমার নিজের কাছেও খুব ভালো লাগছে। “বৃষ্টির পানির রহস্যময়তা হচ্ছে ঝমঝম বৃষ্টির মধ্যেও তা আলাদা করা যায়” হুমায়ূন আহমেদের চিরন্তন এই বানীর সত্যতা প্রমাণ করেই যেনো আমি নিরুপমার কান্না করার ব্যাপারটা ধরে ফেললাম।
পৃথিবীতে সেই পুরুষ সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান, যার জন্য কোনো মেয়ে চোখের অশ্রু ঝড়ায়। আমিও কি তাহলে ভাগ্যবানদের কাতারে পড়ে গেলাম?
– এই মেয়ে শোনো….
– হ্যা শামীম বলো…বলো?
– ভালোবাসি!
– সমস্যা নাই তো কোনো, যাকে ইচ্ছা বাসো না!
– তোমাকে…
– কি?
– ভালোবাসি!
– মানে?
– তোমাকে ভালোবাসি
– শামীম তুমি কি পাগল?
মেয়েটা মুচকি মুচকি হাসছে। এতক্ষনে আমার মাথায় ধরলো যে সে আমার কথা আমাকেই ফেরত দিচ্ছে!
– হ্যা আমি পাগল, পাগল কি করে যানো? মানুষকে তাড়া করে। এখন আমি তোমাকে তাড়া করবো….
আমার কথা শুনেই সে সাথে সাথে দৌড় দিলো। আমিও তার পিছু ছুটছি। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, তার মধ্য দিয়েই আমরা দৌড়ে চলেছি। হঠাৎ সে থেমে গেলো।
– এই ছেলে আমার পিছু নিয়েছো কেনো?
– তোমাকে জড়িয়ে ধরবো বলে, হাহাহা….
আমার কথা শুনে সে হাত দুটো বাড়িয়ে দিলো।
– শামীম?
– জি?
– If You Want You Can Hug Me…. <3
– No It’s Not Possible
– হিহিহি!
– কি হলো আবার হাসছো কেনো?
-ভালোবাসার প্রতিটা পরীক্ষায় তুমি পাস। আমি যে ভুল মানুষের প্রেমে পড়িনি বুঝতে পারছি। এমন ছেলে ও যে এই যুগে আছে বিশ্বাস ই হয় না।
-কেনো?
-এই যে আমাকে জড়িয়ে ধরার অনুমতি দিলাম তারপর ও তুমি ছুঁয়েও দেখলে না। অন্য কেউ হলে তো… যাকগে বাদ দাও। তুমি সত্যিই গুড বয়! 😉
– এই যে এভাবে বলবা না আমি কিন্তু লজ্জা পাই!
– হইছে হইছে আর লজ্জা পেতে হবে না…. শামীম শোনো?
– হ্যা বলো?
– সত্যি আমার ভালোবাসো তো?
– হ্যা সত্যি বলছি। ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি!!! এই বৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই রাতকে সাক্ষী রেখে বলছি ভালোবাসি তোমায় জীবনের চেয়েও বেশী ……
বিঃদ্র- গল্পের কিছু কিছু সংলাপ আমার বাস্তব জীবন থেকে নেয়া
গল্পটা কেমন লাগলো জানালে খুশি হবো…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here