স্বামী নির্যাতন” অতঃপর ভালোবাসা  part 2 

0
201

স্বামী নির্যাতন” অতঃপর ভালোবাসা  part 2

হিংসুটে ছেলে–

!
বাকিটা না শুনেই চলে গেলো। ওর মা
মানে আমার শ্বাশুরি এতক্ষন বাড়িতে
ছিলেন না। তিনি চলে এসেছেন।
এসে আমারর খোজ খবর নিতে লাগলেন।
যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করতে
করতে রাত হয়ে গেলো। আমি
অবন্তিকার ঘরে বসে অনুর সাথে গল্প
করছিলাম।
,
,
—তারপর দুলাভাই কি খবর?
—এই তো ভালো।
—কেমন কাটছে দিনকাল।
—ভালো।
এমন সময় ঘরে এলো অবন্তিকা। ঘরে
ঢুকতেই অনুকে দেখে আবার বেরিয়ে
গেলো।
—এই আপা কই যাও।
—তোরা গল্প কর আমার কাজ আছে।
,
,
বলেই চলে গেলো। একেবারে চলে
যায়নি। দরজার আড়ালে দাড়িয়ে
আছে। লাইটের আলোয় ওর ছায়াটা
দেখা যাচ্ছে। আমি আর অনু কি বলি
সেটা আড়ি পেতে শুনতে চাচ্ছে
হয়তো। আমিও ওকে রাগানোর জন্য
শুনিয়ে শুনিয়ে বললাম।
,

—জানো অনু, মাঝে মাঝে আমার না
খুব আফসোস হয়।
—কেন?
—তোমার আপার আগে কেন তোমার
সাথে দেখা হয়নি। তাহলে আমি
তোমার আপাকে বিয়ে না করে
তোমাকেই বি্যে করতাম।
—কেন? আমি কি আপার চাইতেও
সুন্দরী?
অনুও বিষয়টা বুঝতে পারছে তাই আমার
সাথে তাল মিলাচ্ছে।
—এহ! তোমার আপা আবার সুন্দরী হলো
কবে থেকে? কালো পেত্নি একটা।
—কিহ? আমি কালো পেত্নি? দাড়াও
আজ তোমার একদিন কি আমার একদিন।
বলেই হাতে কাছে যা পাচ্ছে তাই
আমার দিকে ছুড়ে মারছে। বালিশ,
কাথা, বই যা পাচ্ছে তাই। আমি তখন
সেগুলো ফেরাতে ব্যাস্ত।
—অনু বাচাও!
—অনু কেন বাচাবে? ও আমার বোন
আমার পক্ষে থাকবে।
—না আমার শালী আমার পক্ষে
থাকবে।
—আমার পক্ষে।
—না আমার পক্ষে।
—অনু তুমিই বলো কার পক্ষে থাকবে?
—আমি দুলাভাইয়ের পক্ষে।
,
,
বলেই দৌড় দিলো অনু। কিন্তু যাবার
সময় আমার মানিব্যাগটা ছুড়ে দিয়ে
গেলো। আমি তাড়াতাড়ি সেটা
লুফে নিলাম। কিন্তু এতক্ষনে আমার
স্বাস্থবান মানিব্যাগ অপুষ্টির রোগী
হয়ে গেছে। তার মানে আমি যখন
বউয়ের মার ফেরাতে ব্যাস্ত তখন আমার
শালিকা আমার মানিব্যাগ নিয়ে
ব্যাস্ত। তাইতো বলি আপন বোনকে
সমর্থন না করে শহালিকা আমাকে কেন
সমর্থন করবে।
যাই হোক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ। আমি আর
অবন্তিকা বিছানায় শুয়ে আছি।
দুজনেই ক্লান্ত। আমি আমার ডান পাশ
ঘুরে শুয়ে আছি। অবন্তিকা
উল্টোপাশে। বিবাহিত লোকেরাই
জানে এটা কতটা কষ্টের একটা মুহুর্ত।
রাত বারোটা বাজে। আমার চোখে
ঘুম নেই। ঘুম আসবে কি করে। এমন মিষ্টি
একটা বউ থাকতেও যে সিঙ্গেল তার
কি ঘুম আসে। কিন্তু মহারানী মনে হয়
ঠিকই ঘুমাচ্ছেন। হঠাত করেই আমি
কবিতা আবৃত্তি শুরু করলাম খুব আওয়াজ
করে……
,
,
বল বীর,
বল উন্নত মম শির,
শির নেহারি আমারি, নতশির ওই শিখর
হিমাদ্রীর।
বল বীর, বল উন্নত মম শির।
,
,
—আহ! আকাশ কি হচ্ছে?
,
যাক তাহলে সেও জেগে আছে।
,
—বিরহের কবিতা আবৃত্তি করছি।
—এটা বিরহের কবিতা নাকি
বিদ্রোহী কবিতা।
—যার বউ থেকেও নেই তার কাছে
বিরহী আর বিদ্রোহী একই কথা।
—বউ নেই মানে? এই তো আমি আছি।
—আছ তো তবে মাঝখানে বিশাল
মহাকাশ আছে।
—তাহলে জড়িয়ে ধরে রাখতে হবে?
—কেন আমি কি তোমার সৎ স্বামী?
—সৎ স্বামীই তো। সৎ স্বামী না হলে
কি আর আমাকে ছেড়ে অন্য মেয়ের
দিকে তাকাতে? আমাকে একা
ছেড়ে দিতে?
—অন্য মেয়ের দিকে তাকাইছি
মানে? কার দিকে তাকাইছি?
—অনুর দিকে।
—ও তো আমার শালিকা। বউয়ের ছোট
বোন।
—বউয়ের ছোট বোন বউ তো আর না।
—পার্থক্য কি?
—এটাই হলো পার্থক্য।
,
,
বলেই আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে
ধরলো। আমি ও এবার ওর দিকে
ফিরলাম। আমার একদম কাছে
অবন্তিকা। আমার মুখের কাছে ওর মুখ।
দুজনের নিঃশ্বাস একাকার হয়ে মিশে
যাচ্ছে। আমি আলতো করে ওর কপালে
আমার ঠোট ছোয়ালাম। ও আমাকে
আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

চলবে….???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here