1.8 C
New York
Thursday, December 5, 2019
Home বড় গল্প সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)১ম_পার্ট

সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)১ম_পার্ট

সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)
১ম_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

রাত প্রায় ২ টা বাজে!গ্রামের সরু পথ দিয়ে গুটিগুটি পায়ে হেটে চলছে নিলয় ও তার মামা।
কিছু একটার শব্দে পিছনে তাকিয়ে হঠাৎ করেই মামা আ আ আ……………………বলে প্রচণ্ড জোরে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে নিলয়।
নিলয়ের এমন পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অনেকটাই ঘাবড়িয়ে যায় নিলয়ের মামা আলিফ।
হাতের টর্চলাইট টা সামনে থেকে ঘুরিয়ে নিলয়ের দিকে ধরে দেখে নিলয় লুটিয়ে পরে আছে মাটিতে।
কোন সাড়াশব্দ নেই তার।
আলিফ তাড়াতাড়ি করে মাটিতে বসে নিলয়কে এক হাতে জড়িয়ে ধরে ডাকতে থাকে কিন্তু নিলয়ের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে আলিফের চিন্তার রেশ যেন আরও বাড়তেই থাকে।
একদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত,তার উপর নিলয়ের এমন অবস্থা তাকে অস্থির করে তুলছে।
তারদিক থেকে শুধু ঝিঝি পোকার শব্দ কানে ভেসে আসছে।কোন জনমানবের দেখা, শব্দ কিছুই নেই।
চারদিকে টর্চলাইট মেড়ে দেখে কোথাও তেমন বাড়িঘর নেই।
সদূর প্রান্তে কলাগাছের আড়ালে একটা বাড়ি দেখা যাচ্ছে তবুও বাড়িতে লাইট জ্বালানো নেই।
আলিফ আর দেরি না করে টর্চলাইট হাতে নিয়ে নিলয়কে কোলে তুলে নিল।নিলয়ের হাতে থাকা মাছের পুটলি টা রাস্তার মাঝখানেই পরে রইল।
……………………………………………
মিনিটখানেক পর আলিফ তার ভাগ্নে নিলয়কে কোলে করে কলাগাছের আড়ালের সেই বাড়িতে উঠল।
চারদিকে তাকিয়ে দেখল বাড়ির চারপাশে নানারকম গাছপালায় আচ্ছাদন।
বাড়িতে একটা বড় বটগাছও আছে।বটগাছের বেশ কিছু জট ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
বাড়ির চারপাশে ভালো করে দেখতে দেখতে আলিফের মনেই নেই যে কি কারনে এই বাড়িতে আসা,আর তার কোলে যে নিলয় আছে তারও খেয়াল ছিল না তার।
হঠাৎ করে হুস ফিরতেই মলিন মুখে ঘরের দরজায় নক করল আলিফ।দরজাটাও বেশ নড়বড়ে হয়ে আছে।বেশ জোরে ধাক্কা দিলেই হয়তো ভেঙে যাবে।দরজার পূর্ব পাশেই বেশ বড় একটা তুলশী গাছ।গাছের চারপাশে মাটি দিয়ে সুন্দর করে রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে।

বেশ কয়েকবার দরজায় টুকা দিয়ে নক করার পরই কেও একজন চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলল।আলিফ লক্ষ্য করল একজন মধ্য বয়স্ক পুরুষ দরজাটা খুলেছে।রাতের আধারে চেহারা তেমন দেখা যাচ্ছিল না।কিন্তু হঠাৎ করে ঘরে বাতি জ্বলে উঠল।
বয়স্ক লোকটি আলিফ কে দেখে জিজ্ঞেস করল—- কি চাই এখানে,এত রাতে?
আলিফ বিনয়ের স্বরে বলল—- আমার ভাগ্নে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে ঐ রাস্তায় পরে গিয়েছিল।তাই যদি আপনার বাসায় কিছুসময় থাকতে দিতেন!কিছুক্ষণ পরই তো সকাল হয়ে যাবে।
বৃদ্ধ লোকটি কিছুক্ষন ভেবে আলিফ কে থাকতে দিতে রাজি হয়ে গেল।
আলিফ বৃদ্ধের ঘরে ডুকে দেখল একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা চৌকির উপর বসে আছে,আর তার পাশেই বৈদুতিক সুইচের লাইন।আলিফ বুঝল যে এই মহিলাটিই লাইন জ্বালিয়েছে।মহিলাকে দেখে আলিফ বুঝল যে তারা সনাতন ধর্মের লোক।

আলিফ তাৎক্ষণিক নিলয়কে কোলে থেকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বৃদ্ধের কাছে পানি চাইল।
বৃদ্ধ একটা গ্লাসে করে পানি এনে আলফের হাতে দিলে, আলিফ পানির ছিটাফোঁটা নিলয়ের চোখে মুখে দিল।
তার মিনিটখানেক পরই নিলয়ের জ্ঞান ফিরে আসল।
নিলয় একবার চোখ খুলেই চিৎকার করে বিছানা থেকে উঠে আলিফ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
বৃদ্ধা আর মহিলাটি একে অপরের দিকে চোখ চাওয়াচাওয়ি করল।
কিছুক্ষণ পর নিলয় আলিফের কোলে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পরলে নিলয় তাকে বৃদ্ধের চৌকিতে শুইয়ে দিয়ে বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে বলল— আপনাদের মনে হয় এত রাতে জাগিয়ে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেললাম?
বৃদ্ধ হেসে বলল— আরে না, না কোন সমস্যা নেই।তুমি বিপদে পরেছ বলেই তো এখানে আমার বাড়িতে এসেছ।আর মানুষের ধর্মই তো মানুষের সেবা করা।কিন্তু তোমরা এত রাতে কই যাচ্ছিলে? আর এখানেই বা এলে কি করে?

আলিফ শান্ত স্বরে বলল—- আমার বাসা ঐ পাশের গ্রামেই।আমার নাম আলিফ, আর এই যে চৌকিতে শুয়ে আছে ও আমার ভাগ্নে নিলয়।বয়স ১০ বছর।

—- ওও,আমার নাম সূর্য সেন।আর আমার স্ত্রী মধু সেন।না আর বাড়িঘর দেখেই বুঝতে পারছ আমরা সনাতন ধর্মের লোক।

—আলিফ মাথা নাড়াল।

সূর্য সেন আবার জিজ্ঞেস করল– কি বেপার বললে না যে,এত রাতে তোমরা এখানে এলে কি করে?

আলিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে লাগল– আমি আর আমার ভাগ্নে মিলে এসেছিল পাশের ঐ কানা বিলে মাছ । দিনে তো প্রচুর বৃষ্টি হলো,তাই সবাই রাতে এসেছিলাম টেটা,পলো,কাচি নিয়ে মাছ ধরতে।আমার ভাগ্নে গতকালই বেড়াতে এসেছে আমাদের বাড়িতে। আজ রাতে বায়না করল, সবাই যখন মাছ ধরতে যাবে তখন সেও নাকি যাবে।আমিও অবশ্য মাছ ধরতে পছন্দ করি,তাই আর অমত না করে নিলয়কে সাথে নিয়েই সবার সাথে মাছ ধরতে বেরিয়েছিলাম।
বিলে এসে দেখি অনেক মানুষ মাছ ধরতে জরো হয়েছে,তা দেখে মনে মনে অনেক সাহস পেলাম।এই অন্ধকার বর্ষাকালের রাত্রে নাকি ভুত পেত্নীর অর্বিরভাব বেশি থাকে।তাই মানুষ জন দেখে সাহস পেয়েছিলাম।
আমি মাছ ধরছিলাম আর আমার ভাগ্নে মাছের পুটলি(থলি)রাখছিল।বেশ কিছুক্ষন ভালই মাছ ধরছিলাম।
কিন্তু চোখের সামনে হঠাৎ করেই একটা বড় রকমের মাছ এসে পরে,আমি ছোট একটা পলো নিয়ে গিয়েছিলাম মাছ ধরতে।
তাই পলো দিয়ে ঐ বড় মাছটাকে চাপ দিলাম।চাপ দেওয়ার পরপরই মনে হলো মাছটি আমার পলোয় পরেছে, কিন্তু না!আমি যখন পলোর ভেতরে হাত দিলাম তখন মাছ শুন্য পলো পেলাম।
ভালোভাবে পলোর ভেতরে হাত দিলাম,টর্চলাইট মারলাম তবুও মাছটাকে দেখতে পেলাম না।কিছুক্ষন খুঁজাখুঁজির পর আবার সেই বড় মাছটি দেখলাম আমার সামনে এসে কাতরাচ্ছে।
এবারও আমি মাছের উপর পলো চাপ দিলাম।কিন্তু হতাশ হয়ে এবারও সেই মাছটিকে পলো বন্ধি করতে পারলাম না।
এভাবে করতে করতে কিছুক্ষন পরপরই সেই বড় মাছটি আমার থেকে কিছুদূর সামনে আসে আর আমি তাকেই ফলো করে ধরতে চেষ্টা করি।বরাবরই আমি তাকে ধরতে ব্যার্থ হই।কিন্তু মনের ভেতর ওই মাছটাকে ধরার এক জেদ চাপে।তাই অন্যমাছ ধরা বাদ দিয়ে আমি আর আমার ভাগ্নে ওই মাছটির পেছনেই ছুটছিলাম। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো,আমি যে কয়বারই ওই মাছটিকে আমার পলোর নিচে ফেলি সেই কয়বারই তার কিছুক্ষন পরই ওই মাছটা আমার থেকে সামনে ছূটতে থাকে,আর ক্রমশ একটু একটু বড় হতে থাকে।

আলিফের কথা শুনে বৃদ্ধের শরীর ঘামতে থাকে,এই বর্ষাকালের বৃষ্টির রাতে যেখানে সবাই শীতের কারনে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে সেখানে বৃদ্ধি আলিফের কথা শুনে ঘামতে থাকে।তবুও নিজেকে শান্ত করে আলিফকে জিজ্ঞেস করে–তারপর কি হয়েছিল।

আলিফ একটু থেমে আমার বলতে লাগল — তারপর আমি ওই মাছটাকে ধরার চেষ্টা করতে করতে একসময় পেছনে তাকিয়ে দেখি একজন মানুষের ছায়াও নেই।সবাই বাড়ি ফিরে গেছে।এতবড় একটা বিলের মাঝখানে শুধু আমি আর আমার ভাগ্নে ছিলাম।তবুও আমি ওই মাছের নেশায় মগ্ন হয়ে মাছের পিছু ছুটতে লাগলাম।এক পর্যায়ে বিলের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে আসলাম।আর ওই বড় মাছটি প্রছন্ন জোরে বড় রকমরের একটা ঝটকানি মেরে কোথাও চলে গেল।
চারপাশে টর্চলাইট মেরে দেখলাম আমাদের সামনেই অনেক দূরে মাছটি মুখ তুলে পানি খাচ্ছে।দেখে মনে হল অনেক বড় মাছ।সেখানেও যেতে চাইলাম,পরক্ষনে কিছু একটা মনে করে সেখানে ভালোভাবে টর্চ মেরে দেখলাম,আমরা যেখানে যে পানির মাঝে দারিয়ে আছি,তার তুলনায় ওই মাছের ওইখানে পানি অনেকটাই বেশি,তারপর আমরা আর মাছটিকে ফলো না করে আপনাদের এই গ্রামের রাস্তায় উঠে পরি,কারন আমাদের গ্রামের রাস্তায় উঠে বাড়ি ফিরতে আবার বিলের মাঝখানে দিয়ে যেতে হবে।আমি তখন কিছুটা ভয়ের মধ্যেই ছিলাম,তাই এই রাস্তা দিয়েই আসতেছিলাম,আর আপনাদের ওই রাস্তার পাশের বটগাছের নিচে আসতেই আমার ভাগ্নে অজ্ঞান হয়ে যায় তারপরই আমরা এখানে।

আলিফ তাকিয়ে দেখল বৃদ্ধ লোকটি ঘেমে চুপসে গেছে।তার চামড়ার ভাজগুলাও ঘন হয়ে আসছে,আর বৃদ্ধ মহিলাটির দিকে তাকিয়ে দেখল মহিলাটির হাত পা ক্রমশ কেঁপে চলছে।

তা দেখে আলিফ জিজ্ঞেস করল— কি বেপার আপনারা একজন ঘামছেন আরেকজন কাঁপছেন কেন?

বৃদ্ধ কাঁপাকাঁপা স্বরে বলল—-তুমি যে মাছটির পেছনে ছূটছিলে সেটার গায়ের রঙ কেমন ছিল!

আলিফ হেসে বলল— হালকা কালোর সাথে সাদার মিশ্রন গায়ের রঙ,কিন্তু আপনারা এমন করছেন কেন?

বৃদ্ধ আলিফের দিকে এগিয়ে এসে বলল— ওটা কোন মাছ না!ওইটা মাছের একটা অশ্লীল রুপ।

বৃদ্ধের কথা শুনে আলিফ হতভম্ব হয়ে বৃদ্ধের দিকে চেয়ে রইল😲😲😲😲😲…………………………………………………

চলবে…………………………………………???

MD SHARIF SORKAR
পৃথিবীর নিয়ম বড়ই অদ্ভুত। যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসো, সেই তোমার দুঃখের কারন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রুমাল, শেষ পর্ব।

#রুমাল, শেষ পর্ব। মদ্যপ ও একাধিক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মাস্কো প্লাজার পেছনের ফ্ল্যাটের তেরো নম্বর রুম থেকে ডিবি পুলিশের দেয়া ইনফরমেশন অনুযায়ী আটক করা...

রুমাল, পর্বঃ০৪

#রুমাল, পর্বঃ০৪ খবর শুনেছেন? জহিরের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে মিরসরাইয়ে। শাহরিয়ার খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে বলল,কি বলেন স্যার! কেস তো তবে জটিল হয়ে গেল।মোস্তাক...

গল্পঃআলেয়া। 

গল্পঃআলেয়া। Borhan uddin ওস্তাদজী আছে কি? নুরুন্নাহারের ধবধবে অর্ধনগ্ন পিঠখানা নজরে আসতেই মাথা নিচু করে নেয় ওবায়েদ ।গোসল সেরে আসা নুরুন্নাহার ওবায়েদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে ভেজা...

গল্পঃরুমাল, পর্বঃ০৩

গল্পঃরুমাল, পর্বঃ০৩ মাস দুয়েক পেরিয়ে যাবার পরেও জহিরের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তুরস্ক থেকে যে বিষের কৌটা আনা হয়েছিল চট্টগ্রামে সে বিষয়ে খোঁজ চলছে এখনো।শাহরিয়ারের...

Recent Comments