সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)শেষ_পার্ট

0
153

সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)
শেষ_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

নিলয় শান্ত স্বরে বলল–ইয়া বড় বড়,একটা সাদা আরেকটা কালো,বড় গাছের সাথে ঠেকানো,বড় বড় অনেকগুলা দাত আর ইয়া বড় বড় লাল জিব্বা।

সূর্য সেন নিলয়ের কথা বুঝতে পেরে তার শরীর দিয়ে ঘাম ঝড়তে লাগল।

আলিফ সূর্য সেনের বেপার বুঝতে পেরে বলল– কি বেপার আপনি এমন ভাবে ঘামছেন কেন?

— না তেমন কিছু না।তোমার ভাগ্নে কে বিড়ালের মাছ খাওয়ার পুরো ঘটবা বলতে বল তো।

আলিফ শান্ত স্বরে নিলয়কে বলল– আচ্ছা নিলয় তোমার সাথে বিড়ালের কি হয়েছিল?বিড়াল তোমার মাছ খেল কেন?

নিলয় প্রথমে কিছু না বললেও পরে কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল– মামা আমরা যখন ওই রাস্তা দিয়ে হেটে আসতেছিলাম তখন ওই বড় গাছের তলায় থেকে কিছু একটার শব্দ আসে, আমি পিছে ফিরে দেখি দুইটা বিড়াল বড় বড় জিব্বা দিয়ে আমার মাছের পুটলি থেকে মাছ নিয়ে খাচ্ছে,ইয়া বড় বড় দাত বিড়ালের,ইয়া বড় লাল জিব্বা, বড় গাছের সাথে মাথা ঠেকানো আর মাটিতে পা ঠেকানো,আর কি ভয়ংকর চোখ, মনে হয় চোখ দিয়ে আলো বের হচ্ছে।তারপর আর আমার কিছুই মনে নাই।

আলিফ নিলয়ের কথা শুনে সূর্য সেনের দিকে তাকিয়ে দেখল সূর্য সেন গম্ভীর ভাবে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

আলিফ সূর্য সেনকে উদ্দেশ্য করে বলল– কি ভাবছেন নিলয়ের দিকে তাকিয়ে?

— ভাবছি তোমরা আজ বড় ধরনের বিপদ থেকে বেচে গেছ। নিশ্চয় তোমাদের আল্লাহ তোমাদের সাথে ছিল নয়তো আজ এখানে আসতে পারতে না।

আলিফ অবাক হয়ে প্রশ্ন করল– কি বলছেন এসব,আবার কিসের বিপদ ছিল?

— আসলে তোমার ভাগ্নে যে বিড়াল দুইটা দেখেছিল ওই দুইটা ছিল অশ্লীল আত্তা।

— কি?

— হ্যা আমার কথাই সত্যি!

— কিন্তু এগুলা বিড়ালের রুপ ধারন করল কি করে আর এগুলার উৎপত্তিই বা কোথায়?

— বলছি তাহলে শোন……… বেশ কিছু বছর আগে ওই বড় বট গাছে একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে ফাঁশি দিয়ে মারা গেছিল তারপর থেকেই ওই অশ্লীল আত্তার উৎপত্তি।

— কিন্তু ছেলেমেয়ে দুজন ফাঁশি দিছিল কেন?

— কারন ছেলে মেয়ে দুজন ছিল সনাতন ধর্মের,তারা একে অপরকে ভালবাসতো কিন্তু তাদের দুজনের গোত্র আলাদা হওয়ায় কেওই তাদের ভালবাসা মেনে নেয়নি।এই নিয়ে একদিন গ্রামে শালিস বসে আর গ্রামের মাত্তাবররা জানায় এক সপ্তাহের মধ্যেই মেয়েকে তার গোত্রের ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে।
সেদিন সকালেই দেখা যায় ওই বট গাছে একই রশিতে ছেলে মেয়ে দুজনের ফাঁশি দেওয়া মৃত দেহ পাওয়া যায়।
লোকের ধারনা ছিল তাদের প্রেম ভালবাসা মেনে নেওয়া হয়নি বলে তারা আত্নহত্যা করেছে। তাই কেওই তাদের না পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়নি।পাশের এক জঙ্গলে তাদের ফেলে দেওয়া হয়।
এভাবেই চলতে ছিল কয়েকবছর।
তারপর থেকেই শুরু এই সাদা ও কালো বিড়ালের গল্প।

— কিন্তু আপনারা নিশ্চিত কি করে যে ওই ছেলে মেয়ে দুটাই আজকের সেই সাদা ও কালো বিড়াল।

— কারন, যখন তারা ফাঁশি দিয়ে মারা যায় তখন ছেলের পরনে ছিল সাদা শার্ট আর মেয়ের পরনে ছিল কালো জামদানী শাড়ি।
কিছুদিন আগেও এক ছেলে ভরদুপুর বেলা গরম চিতই পিঠা খেতে খেতে ওই বট গাছের তলা দিয়ে যাচ্ছিল তখন ওই বিড়াল দূটি ছেলেটির হাত থেকে পিঠা নিয়ে যায়।আর প্রতি পূর্ণিমার রাতেই নাকি ওই ছেলেমেয়েদের মা বাবা তাদের স্বপ্নে দেখে।এই থেকে সবাই বিশ্বাস করে যে ফাঁশি দেওয়া ছেলে মেয়ে দুটিই ওই সাদা ও কালো বিড়াল।

ভয়ে আলিফের শরীর দিয়ে ঘাম ঝড়তে থাকে– এখন কি আমাদের কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতি হবে?

— না তেমন কিছুই হবে না, যদি একটা কাজ কর?

— কি কাজ করতে হবে?

— শনি বা মঙ্গলবার ভোর বেলা বাসি পেটে ওই বটগাছের তলায় কয়েক কেজি পুঁটিমাছ দিয়ে যেও আর কানা বিলে কয়েক কেজি লবন দিয়ে দিও, তাতে তোমরা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পার।আর যদি এগুলা না করো তাহলে রাতে ওরা এসে তোমাদের ভয়ংকর স্বপ্ন দেখাবে।
তাই সম্ভব হলে এগুলা করে দিও।

— আলিফ মাথা নাড়াল।

সেদিন সারারাত আলিফ আর নিলয় সূর্য সেনের বাড়িতে থেকে সূর্য সেনের কাছে থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে সকালে বাড়ি ফিরে আসে।

পরদিন ছিল শনিবার, সেদিন ভোর সকালে সূর্য সেনের সাহায্য নিয়ে আলিফ ওই বট গাছের তলায় কয়েক কেজি পুঁটিমাছ দিয়ে আসে আর কানা বিলের শেষ প্রান্তে গিয়ে কয়েক কেজি লবন দিয়ে আসে।তারপর থেকেই ওই মাছ আর সাদা ওঁ কালো বিড়ালের থেকে রক্ষা পায় আলিফ ও নিলয়।

{এইটা গল্প হলেও অনেকটাই সত্য ঘটনা অবলম্বনে। তাই হয়তো আপনাদের মন মতো সাজিয়ে গুছিয়ে ভয়ংকর করে লিখতে পারিনি।
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আর ভালো লাগলে জানাবেন,ধন্যবাদ}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here