সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)২য়_পার্ট

0
135

সাদা_ওঁ_কালো_বিড়াল(আংশিক সত্য)
২য়_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

বৃদ্ধ আলিফের দিকে এগিয়ে এসে বলল— ওটা কোন মাছ না!ওইটা মাছের একটা অশ্লীল রুপ।

বৃদ্ধের কথা শুনে আলিফ হতভম্ব হয়ে বৃদ্ধের দিকে চেয়ে রইল–কি বলছেন আপনি এসব?ওইটা মাছের অশ্লীল রুপ হতে যাবে কেন?

–আমি ঠিকই বলছি ওইটা মাছের একটা অশ্লীল রুপ।ওইটা যদি সত্তিই মাছ থাকতো, তাহলে তুমি ওইটাকে ধরতে পারতে।অথচ একবার ভেবে দেখ তুমি যে কয়বার মাছটিকে পলো বন্ধি করেছ সেই কয়বারই মাছটি বেরিয়ে গেছে, তুমি নিশ্চিত ছিলে যে মাছটি তোমার পলো বন্ধি হয়েছে,অথচ তুমি একবারও মাছটিকে ছুতে পারনি।
তুমি নিজেই তো বললে যে,মাছটি ক্রমশ বড় হচ্ছিল।একবারো কি ভেবে দেখেছ কোন মাছ তোমার সামনে ক্রমশ আকারে বড় হতে থাকবে।আর আমি এও জানি যে মাছের গায়ের যে রঙ ওইটা কোন সাধারণ মাছের রঙ না।যে কেও দেখলে ওই মাছটিকে চিনতে পারবে না।

সূর্য সেনের কথা শেষ হতেই আলিফ পুরো বেপারটা ভেবে দেখল সূর্য সেন যা যা বলেছে তার সবই সত্যি।
আলিফ অস্থির হয়ে প্রশ্ন করল — ওইটা যদি মাছ নাই হয় তাহলে ওইটা কি?

–ঐটা একটা মৃত শিশুর আত্তা।

— কি,কি বলছেন এসব?ঐটা কেন মৃত শিশুর আত্তা হতে যাবে?

— আমি ঠিকই বলছি।বেশ কিছু বছর আগে ঐ “”কানা বিলে””একটা শিশু বাচ্চার মৃত দেহ পাওয়া যায়।সবাই ধারনা করে যে,ঐ বিলের রাস্তা থেকে কেও ঐ বাচ্চাটাকে ছুরে ফেলেছে।বাচ্চার মৃত দেহ দেখতে এতই ভয়ংকর ছিল যে বাচ্চাটাকে কেও স্পর্শ করার সাহসও পর্যন্ত কেও পায়নি।
বাচ্চাটার চোখে মুখে ছিল এক ভয়ংকর অস্তিত্ব। এক জেলে ঐ বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বাচ্চাটাকে প্রথমবারের মতন দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেছিল।
তার সাথে আরও যে কয়জন জেলে ছিল তারাও বাচ্চার ভয়ংকর রুপ দেখে কোন মতে অজ্ঞান জেলেটিকে পানি ছিটা দিয়ে অজ্ঞানমুক্ত করে বাড়ি ফিরে এসেছিল।তারপরই সবাই এই ঘটনা জেনে যায়। সবাই মিলে যখন বাচ্চাটিকে দেখতে ওই বিলে যায় তখন অনেকেই ভয়ে চুপসে যায়।তখন বাচ্চাটির গায়ে থেকে বেশ দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল তাই আর কেও বাচ্চাটিকে স্পর্শ করেনি।একে তো বাচ্চাটির ভয়ংকর রুপ আবার সাথে পচা লাশের দুর্গন্ধ। তাই বাচ্চাটাকে সবাই ওই বিলের মাঝেই রেখে এসেছিল।
তারপর থেকেই বেশ কিছুদিন পর পর ওই বিলে ভয়ংকর শব্দের সাথে এক বাচ্চার কান্নার শব্দ পাওয়া যেত।সবাই ধারনা করত যে মৃত বাচ্চাটি ওই বিলের মাঝে ছিল সেই বাচ্চার কান্নাই আসত।
এভাবে প্রায় প্রতি রাতেই বিলের মধ্যে থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ আসতো।
তখন আর ভয়ে কেও ওই বিলে মাছ ধরতে যেত না।গেলেও যেখানে ওই বাচ্চাটির মৃতদেহ পাওয়া গেছিল সেখানে কেও যেত না।
এরই কিছুদিন পর এক জেলে মাছ ধরতে গিয়ে একটি মাছকে ফলো করতে করতে ছোট এক গর্তে পরে যায়,সেই মাছটিই তুমি আজ ফলো করছলে।ভাগ্য ভালো ছিল তুমি ওই গর্তে যাওনি,যেখানে মাছটি বড় হয়ে পানি পান করছিল।

আলিফ ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন করল– তারপর ওই জেলের কি হয়েছিল?

–গর্তে পরার পরই নাকি ওই জেলেকে কোন এক ভারী বস্তু দ্বারা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়,কিন্তু জেলেটি কোন ক্রমে সেখানে থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাড়ি চলে এসে জেলের সাথে ঘটে যাওয়া সব কিছুই লোকজন কে বিস্তারিত বলে দেয়।তারই কয়েক মাস পরে জেলেটি পেট আর শরীর ব্যাথ্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।তবে সবাই নিশ্চিত ছিল যে ওই মাছটির ভারী আঘাতের ফলেই তার পেট আর শরীর ব্যাথ্যা হয়েছিল আর জেলেটির সে জন্যই মারা গেছিল।
আর সবাই এখন বিশ্বাস করে যে,ওই বাচ্চাটির অশ্লীল আত্তাই ওই বড় মাছটি।
তোমার ভাগ্য ভালো বিধায় তুমি আজ এখানে বেচে ফিরেছ।নয়তো ওই বিলের মাঝেই লাশ হয়ে পরে থাকতে হতো।

আলিফ দু হাতে মুখের ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করল– কিন্তু ওই বাচ্চাটি মানুষের ক্ষতি করবে কেন?আমরা কেও তো ওই বাচ্চাটির কোন ক্ষতি করিনি?

— বাচ্চাটি হয়তো কোন একজনের অবৈধ পাপের ফসল ছিল।যার কারনে লোকচক্ষুর আড়ালে এই বিলের মধ্যে ফেলে রেখে গেছিল।আর আমরা বাচ্চাটিকে কোন কিছু না করে ওই বিলের মধ্যেই রেখে এসেছিলাম এজন্যই হয়তো মানুষের প্রতি বাচ্চাটির অশ্লীল আত্তার প্রভাব পরছে।

সূর্য সেনের কথা শুনে আলিফ ভয়ে চুপসে গেলেও কোন রকম নিজেকে শান্ত করে সেখানেই বসে রইল।
এমন সময় কারও গলার আওয়াজ পেয়ে আলিফের ধ্যান ভাঙল।
পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে নিলয় বিছানায় বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
আলিফ নিলয়ের কাছে গিয়ে বসতেই নিলয় তাৎক্ষণিক আলিফ এর হাত জড়িয়ে ধরল।আলিফ বুঝতে পারল নিলয় ভয়ের মধ্যে আছে।কিন্তু কি কারনে কিসের ভয় তা আলিফ জানে না!
তাই নিলয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করল– কি রে নিলয়,তখন ওইরকম ভাবে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেছিলি কেন?

নিলয় আরও শক্ত করে আলিফের হাত ধরে বসে রইল।

— কি রে কিছু বলছিস না কেন? কি হয়েছিল তর?কোন খারাপ কিছু দেখেছিস?

নিলয় কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল– মামা বিড়াল!

আলিফ বিরক্ত হয়ে বলল– কিসের বিড়াল।কোথাকার বিড়ালের কথা বলছিস তুই?

— ওই যে রাস্তায় বড় গাছের নিচে দুইটা বিড়াল আমার হাতের মাছ খেতে এসেছিল।

আলিফ নিলয়ের কথা কিছু না বুঝে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।

এমন সময় সূর্য সেন বলে উঠল– আচ্ছা বিড়াল দুইটা দেখতে কেমন?

নিলয় শান্ত স্বরে বলল– ইয়া বড় বড়,একটা সাদা আরেকটা কালো,বড় গাছের সাথে মাথা ঠেকানো, বড় বড় অনেকগুলা দাত,আর ইয়া বড় লাল জিব্বা।

সূর্য সেন নিলয়ের কথা বুঝতে পেরে তার শরীর দিয়ে অঝরে ঘাম ঝড়তে লাগল……………………………………………………

চলবে……………………………………???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here