রুমাল, শেষ পর্ব।

0
411

#রুমাল, শেষ পর্ব।
মদ্যপ ও একাধিক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মাস্কো প্লাজার পেছনের ফ্ল্যাটের তেরো নম্বর রুম থেকে ডিবি পুলিশের দেয়া ইনফরমেশন অনুযায়ী আটক করা হয় ঝুমুর মিম হত্যার মূল হোতাকে।

ছিপছিপে গড়নের মাকসুদ দেখতে বেশ বোকাসোকা ধরনের।মোটা ফ্রেমের চশমার ভেতর দিয়ে সে বড্ড নিরীহ ভাবে তাকায়।

মদ্যপ অবস্থায় থাকায় সেদিনকার মত আর জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।পরদিন সকালে সাজ্জাদকে দায়িত্ব দেয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

সাজ্জাদের সামনের চেয়ারে বসানো হয়েছে মাকসুদকে।মাকসুদ খুব শান্ত চাহনি দিয়ে বললো,আমার ফ্ল্যাটে একটু রঙ তামাশা করলাম তাতেই ধরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে যাচ্ছেন!

সাজ্জাদ বেশ বুঝতে পারছে এই নিরীহ চেহারাটার ভেতর থেকে কথা বের করতে বড্ড কষ্ট হবে । কেননা তাদের হাতে স্পেসিফিক কোন প্রমাণ নেই,ডিবি পুলিশ বলছে কেউ একজন তাদেরকে খোলা চিঠি দিয়ে মাকসুদ সম্পর্কে জানিয়েছে।এতটুকু তথ্যের উপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী প্রমাণ করাটা সহজ ব্যাপার নয়।সাজ্জাদ শীতল গলায় বললো, আপনার ঘরে দেখলাম বিদেশি হুইস্কিতে ভর্তি।আর যে মেয়েগুলো ছিল তাদের নাকি পার নাইট দশ হাজার করে দেন। এত টাকার সোর্স কি?

-বিজনেস।

কিসের বিজনেস আপনার?

-আলু, কুমড়া, লাউ। এইতো এগুলার বিজনেস।

আচ্ছা।তো কোথায় করেন এই বিজনেস?

-সিঙ্গাপুর,মায়ানমার, লেবানন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ বেশ কয়টা দেশে।আচ্ছা স্যার একটু টিস্যু হবে? চশমাটা কেমন ঘোলাটে হয়ে আছে,আপনার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা।

সাজ্জাদ টিস্যু পেপার এগিয়ে দিয়ে বললো,তা আপনার মালগুলো কিভাবে পাঠান?

মাকসুদ চশমাটা মুছে চোখ দিয়ে বললো,বাহ! আপনার মুখটা এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।বেশ সুদর্শন আপনি! ও! মালগুলো কিভাবে পাঠাই, তাই তো? জাহাজে পাঠাই। প্রোফিট আসে বেশ।

তো মালগুলো কেনেন কোন কোন জায়গা থেকে?

– দেশে তো ক্ষেতখামারের অভাব নেই

আচ্ছা।আলু,পটলের ব্যবসা করেন ভালো কথা।তবে সমস্যাটা বাঁধিয়েছেন অন্য জায়গায়।ঝুমুর, মিম,জহিরকে খুন করে।কেন খুন করলেন ওদের?

– এরা আবার কারা? আর আমি আলু,লাউয়ের ব্যবসায়ী। মদ,মেয়েতেই আমার দুনিয়া। আমি খুন খারাবি কেন করবো!

সাজ্জাদ বুঝতে পারছে মাকসুদ খুব ঠান্ডা মাথার খিলাড়ি। সাজ্জাদকে গতরাতে কক্সবাজার পুলিশ অফিসার আরমান মাহবুব ফোন করে জানিয়েছে হিভেন রিসোর্টের কেয়ার টেকার হামিদ দশ হাজার টাকার বিনিময়ে জানিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ ফারুক সাহেবের নির্দেশে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।সাজ্জাদের হিসেবও দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে যায়। মাকসুদের চোখে চোখ রেখে ফণী ধরা গোখরার মত সাজ্জাদ বললো,ফারুক সাহেবের সাথে তোর সম্পর্কটা কি?

মাকসুদ বুঝতে পারে সাজ্জাদের আপনি থেকে ‘তুই’ সম্বোধনে নেমে আসাটা তার জন্য সতর্কতা। মাকসুদ নিরীহ চাহনি দিয়ে বললো,ফারুক সাহেবটা আবার কে বলেন দেখি! কিসব নাম বলছেন যাদের চিনিই না আমি।

সাজ্জাদ গায়ের সমস্ত জোর দিয়ে মাকসুদের ঠোঁট বরাবর ঘুষি মেরে বসে। মাকসুদ চেয়ার থেকে পড়তে যেয়েও পড়েনা। মাকসুদের ঠোঁট বেয়ে রক্ত ঝরছে,জিহ্বা দিয়ে রক্তবিন্দু চেটে নিয়ে থু দিয়ে ফেলে দেয় মাকসুদ। সাজ্জাদের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

-আমি ফারুক নামের কাউকে চিনিনা,এই অন্যায়ে আপনি আমাকে মারলেন?

সাজ্জাদ ঠোঁটের কোণে হাসি এনে বললো,তোর মস্তিষ্ক বড্ড শীতল।বড় খেলোয়াড়দের মস্তিষ্ক এমনিতেই শীতল হয়। তা তোর ফারুক বাপ যে কাল রাতে ভিডিও পাঠালো তুই জানুয়ারির তেইশ তারিখে ওর হিভেন রিসোর্টে ছিলি।ওখান থেকেই তুরস্কের ইস্কান্দারকে টেলিফোনে করেছিলি সেই প্রমাণ তো আগে থেকেই আছে।এতসব প্রমাণের বিরুদ্ধে তোর মুখের কথা আইনে টিকবে না।ফাঁসিতে ঝুলবি এটা নির্ঘাত, কেন মারলি ওদের সেটা বলে দে।মানবিক কোন ব্যাপার স্যাপার থাকলে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচতেও পারিস।

মাকসুদের চেহারায় বিচলিত হবার ছাপ স্পষ্ট। সাজ্জাদের কৌশল কাজ করতে শুরু করেছে।মাকসুদ কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে কৃত্রিম হাসি দিয়ে বললো,

-ওহ! হিভেন রিসোর্টের কথা বলছেন? আমি তো বেড়াতে গিয়েছিলাম কক্সবাজার, তখন ওখানেই উঠেছিলাম।আর তুরস্কের ইস্কান্দার না কি যেন বললেন, তাকে আমি ফোন করতে যাব কেন?

চার নম্বর রুমে সেদিন তুই ই ছিলি।আর কেউ ছিল না।আর ফোনটা যেহেতু সেই রুম থেকেই গিয়েছে তার মানে তুই ই করেছিলি।ইস্কান্দারকে তুর্কি পুলিশ ধরেছে অনেক আগেই,আমাদের হাতে তোকে আটকানোর সব প্রমাণ আছে।বেরোনোর রাস্তা বন্ধ তোর।এবার তোর গল্প বলার পালা।বল,শুনি।

-আমি কাউকে ফোন করিনি।আপনারা খামাখাই আমাকে দোষারোপ করছেন।আর আমি সারাক্ষণ রুমে ছিলাম না,আমার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ ফোন করতেই পারে।

হা হা,নিজেকে বাঁচানোর জন্য তোর এই মিথ্যাটা আদালতে টিকবেনা।তুই রুম লক করে গিয়েছিলি নিশ্চয়ই আর না গেলে তোর দায়িত্বে থাকা রুম থেকে কেউ ফোন করলে সেটা তোর উপরই বর্তায়। সাজ্জাদ আরো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,এর মাঝে খবর এলো মোস্তাক আহমেদ তাকে ডেকে পাঠিয়েছে।

মিনিট দশেক ফিরে আবার সেলে ফিরে আসলো সাজ্জাদ।মাকসুদের চেহারায় সেই নির্ভার ভাবটা একদম ই নেই। বেশ বিচলিত দেখাচ্ছে তাকে।

সাজ্জাদ পেছন থেকে মাকসুদের চুল মুঠিতে ধরে ঝাঁকিয়ে বললো,সময় নষ্ট করিস না একদম। সাফসাফ উত্তর দে তোর চারটা ব্যাংক একাউন্টে সব মিলিয়ে বিশ কোটি টাকার বেশি আছে এর সোর্স কি?

মাকসুদ নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না।মাথাটা ঝাঁড়ি দিয়ে সাজ্জাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বললো,বললাম ই তো আলু,লাউয়ের বিজনেস।

সাজ্জাদ পেছন থেকে উড়ো লাথি মারে মাকসুদকে।সামনে টেবিল থাকায় টেবিলে ঘা খেয়ে রাবারের বলের মত পেছন দিকে ছুটে এসে ফ্লোরে পড়ে যায়।সাজ্জাদ মাকসুদের বুকের উপর তিন চারটা লাথি মারতেই মাকসুদ গুঙিয়ে কেঁদে ওঠে।সাজ্জাদ দায়িত্বে থাকা রমজানকে বললো,ওই রমজান কাঁচি, ছুরি নিয়ে আসো।কুত্তার বাচ্চার এক একটা আঙুল কেটে ওর পকেটে পুরে দেবো । এটুকু বলেই শার্টে কলার ধরে মাকসুদকে চেয়ারে উঠিয়ে বসাতেই মাকসুদ সাজ্জাদের পায়ে ধরে বললো,স্যার আমাকে আর মারবেন না প্লিজ।আমি কিছু করিনি স্যার।

রমজান,নেয়াজ ছুরি,কাঁচি নিয়ে সেলের ভেতর ঢুকছে।সাজ্জাদ বললো,দড়ি দিয়ে একে বাঁধো।তোমরা এর হাত ধরবা আর আমি আঙুল কেটে কেটে ওর পকেটে ঢুকিয়ে দেবো।

রমজান পাশে থাকা দড়ি দিয়ে মাকসুদকে চেয়ারের সাথে জোর জবরদস্তি করে বেঁধে দিল।রমজান,নেয়াজ টেবিলের সাথে মাকসুদের হাত চেপে ধরেছে,সাজ্জাদ ছুরি দিয়ে মাকসুদের বুড়ো আঙুলের বেশ খানিকটা কেটে দিতেই গলগলিয়ে রক্ত বের হয়ে এলো।মাকসুদ মাগো বলে চিৎকার করে উঠে বললো,স্যার আমি সব বলছি।সাজ্জাদ ছুরিটা রেখে বললো,বল তাহলে।মাকসুদ ক্রন্দন সুরে বললো

-আমাকে খুব জঘন্য ভাবে ঠকিয়েছিল মিম আর মিমের মা।আমি সুইসাইড করতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলাম ভাগ্যগুণে। এটুকু বলেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মাকসুদ।

সাজ্জাদ খানিক্ষন সময় নিয়ে বললো,পুরোটা বল।

-আমার তখন গ্রাজুয়েশন শেষ।ইন্টারমিডিয়েটে পড়া মিমের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।সম্পর্কের বয়স মাস না পেরোতেই মিমের মা সবটা জেনে যায়।একদিন উনি মিমকে নিয়ে আমার সাথে দেখা করলেন।আমার বাবা মারা গেছে ছোটবেলাতেই,মা মারা গেছে আমি যখন টেনে পড়ি তখন।মা না থাকায় প্রথম দেখাতেই মিমের মাকে আমি মা বলে ডাকি।তিনি আমার সব কথা শুনে,আমি এতিম জেনে,মিমের প্রতি আমার ভালোবাসা দেখে তিনি বললেন আমি যেন দ্রুত কিছু একটা করে নিই।আর আমরা যেন বেশি মেলামেশা না করি।মিমের বাবার তখন দিনাজপুরে পোস্টিং ছিল। মিমের চেয়ে মিমের মায়ের সাথেই আমার তখন সারাদিন কথা হতে লাগল।আমার মনে হচ্ছিল আমি মা ফিরে পেয়েছি।আমি একটা প্রাইভেট ফার্মে মোটামুটি এমাউন্টের জব জুটিয়ে নিয়েছিলাম।বেতনের বড় অংশটা দিয়ে মিমের পড়াশুনার যাবতীয় খরচ চালাতাম আমিই,মিমদের তখন টানাটানির সংসার।আমি একটা বাসাও ভাড়া নিয়ে বেশ গুছিয়ে ফেলেছিলাম।আমি যখন মিমের মাকে বললাম আমি মিমকে বিয়ে করতে চাই তিনি তখন বললেন,মিমের বাবাকে ছাড়া তিনি কিছু করতে পারবেন না আর গভমেন্ট জবের সাথে ভালো এমাউন্ট ছাড়া কোন ছেলের কাছে মিমের বাবা নাকি তুলে দিবেন না।অথচ তিনি প্রায়ই বলতেন তিনি মিমকে আমি যখন চাইব তখনই আমার হাতে তুলে দিবে। আমি প্র‍থমে দমে গেলেও পুরো উদ্যমে বেটার জবের জন্য উঠে পরে লাগি।এর মাঝে মিমের মা শুধু আমার ত্রুটি খুঁজত,নানা শর্ত জুড়ে দিতে লাগলো।মিমের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলে আসলো,মিমের মা আমাকে বললো আমি যেন পরীক্ষার সময় বেশি কথা না বলি।আমিও কথা বলা কমিয়ে দিলাম।এর মাঝে আল্ট্রাটেকে আমি জুনিয়র মার্কেটিং অফিসার পদে যোগ দিলাম। স্যালারি ছিল প্রায় চল্লিশ হাজারের মত।স্যার একটু পানি দিবেন?

সাজ্জাদ রমজানকে দিয়ে পানি আনালে মাকসুদ ঢকঢক করে পানি খেয়ে আবার বলতে শুরু করলো

-মিমের মা খুব খুশি হলেন শুনে।এর মাঝে মিমের পরীক্ষা শেষ হবার দুদিন আগে কোম্পানি থেকে আমাকে তুরস্কে পাঠানো হলো চার মাসের জন্য।আমি তুরস্ক যাবার পর থেকে আর কোন যোগাযোগ হয়নি মিমের মা কিংবা মিমের সাথে। আসলে উনারা সিম বদলে ফেলেছিল।আমি ট্রেনিং এ ঠিকঠাক মন বসাতে পারতাম না।অনেক কষ্টে চারটা মাস শেষে দেশে এসেই শান্তিনগরে মিমদের বাসায় ছুটে গিয়ে জানতে পারি মিমের বাবার ঢাকায় পোস্টিং হওয়ায় তারা বাসা ছেড়ে চলে গেছে আর মিমেরও নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। মিমের এক ফ্রেন্ড বললো,মিমের নাকি বিশাল টাকাপয়সা ওয়ালা লোকের সাথে বিয়ে হয়েছে।মিমের মা মেয়ের জামাইয়ের টাকা এনে বিলাসিতা করে।মিমের বিয়ের ছবিও সে দেখালো।আসলে মিমের মা চেয়েছিল মিমের পরীক্ষাটা যেন ভালোই ভালোই হয়।আর পরীক্ষা শেষ হলেই মিম বাড়ি থেকে বের হতে পারবেনা তাই পরীক্ষার আগ পর্যন্ত আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে গিয়েছিল।মিমের মা প্ল্যান করেই আমাকে মায়াতে আটকে রেখেছিল,এটা তার ট্রিক ছিল।

সাজ্জাদ বললো,মিমের মায়ের সাথে রাশেদের সেক্স ভিডিও ভাইরাল করলি তাকে সুইসাইড করতে বাধ্য করতে?

– না।আমি চেয়েছিলাম আমি তাকে নিজ হাতে মারবো। তার আগে লোভী, ভণ্ড মহিলাটাকে চুড়ান্ত অপদস্থ করতে চেয়েছিলাম। তাই জহিরকে দিয়ে রাশেদকে ম্যানেজ করেছিলাম।রাশেদ প্রায় সৌদি,তুরস্কে যেত।আমার প্ল্যান অনুযায়ী রাশেদ ছাড়া বেস্ট ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আর কাউকেই পেতাম না।

কিন্তু আমি মিমের মাকে মারার আগেই সে ই সুইসাইড করল। আমার খুনের নেশাটা তখনো চেপে ছিল। পরে সব খোঁজখবর নিয়ে তুরস্ক থেকে বিষ আনিয়ে মিমকে মারলাম।

রুমালে বিষ মাখিয়েই মারলি কেন?

– মিম নকশা করা রুমাল খুব পছন্দ করত।আমি নিশ্চিত ছিলাম মিম ঐ নকশা করা রুমাল দেখলে না কিনে পারবেনা। ঠিক একই নকশা করা রুমাল ও আমাকে নিজে সেলাই করে আমার জন্মদিনে দিয়েছিল।তাই সেইম নকশা করা রুমালে বিষ মাখিয়ে দিলে যে সে না কিনে পারবেনা সেটা আমার জানাই ছিল।পলিথিনে মুড়ে দিয়েছিলাম কারণ ও খুব শুচিবাই স্বভাবার ছিল।

রিসোর্টের এন্ট্রি খাতায় মিমের স্বামীর নাম লিখলি এমনকি সিগনেচারও নকলি করলি যাতে সন্দেহটা মিমের স্বামীর দিকে যায় তাই তো?

-হ্যাঁ।ঠিক এই কারণেই জহিরের সাথে রাজশাহীর ভাষায় কথা বলতাম।যাতে সন্দেহর প্রতিটা তীর মিমের স্বামীর দিকে যায়।

জহিরকে মারলি কেন?

-শুয়োরটা কদিন পরপরই টাকা চাইতে লাগল।এর মাঝে ওকে কোনভাবে আমি ভুল করে আমার নাম বলে ফেলেছিলাম।মিমের ছোট বোনটা আবার আমার নাম জানত।তাই আর রিস্ক নিই নি।প্রফেশনাল কিলার দিয়ে জহিরকে মিরসরাইয়ে তুলে নিয়ে গলা কেটে দিলাম।

তুরস্ক থেকে বিষ আনালি,লাখ টাকার ব্যাপার।রাশেদে একাউন্টে তুই অনেকগুলো টাকা দিয়ে রেখেছিলি যাতে রাশেদকে সন্দেহ করে কেসটা অন্ধকারে চলে যায়। এত টাকার সোর্স কি তোর?

– অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছি আমি।যে দেশগুলোর কথা বলেছি ওখান থেকে লাইসেন্স বিহীন অস্ত্র এনে দেশে সাপ্লাই দিই আমি।

তোর সাথে আর কে আছে?

-মাকসুদ হাতের ব্যথা,মুখের ব্যথা নিয়েও হো হো করে হেসে উঠে বললো,এখনো বুঝলেন না? আপনাদের নেতা ফারুক সাহেব, নাটের গুরু।তার সাথে পরিচয়ের পর থেকেই এই ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়া।তবে তাকে ধরতে পারবেন না আপনারা।শুয়োরে বাচ্চা ফারুকের কাছে লাস্ট চালানের ভাগের দেড় কোটি টাকা পাই এখনো। যাতে টাকা দিতে না হয় তাই আমাকে ধরিয়ে দিল!

সাজ্জাদ এমন কিছু একটা আঁচ করতে পারছিল।সাজ্জাদ দ্রুত গলায় বললো,ওর সঙ্গে সব ইনফরমেশন দে।ওর ব্যবসা করাচ্ছি ওকে।ওরে এমন ডলা দেব।

-মাকসুদ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,ও নিজে থেকে আপনাদের সবটা জানিয়েছে। ও গোডাউন চেইঞ্জ না করে, সব ইনফরমেশন হাইড না করে আপনাদেরকে আমার কথা জানায়নি। কিচ্ছু করতে পারবেন না ওর।

সাজ্জাদের ফোনে কল আসাতে সাজ্জাদ উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো,তুই আবারো ঠকলি।ফারুক সাহেব আমাদের কিছুই জানায়নি।আমি আন্দাজ করেছিলাম। ফারুক সাহবে যেহেতু সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে ফেলেছে তাই ওর কোন একটা স্বার্থ আছে।সেই আন্দাজ থেকেই তোর দিকে ঢিল ছুড়লাম।রমজান আসলে ফারুকের সব ইনফরমেশন দিয়ে দিস এটুকু বলেই সাজ্জাদ বেরিয়ে গেলো।

মাকসুদ হেসে উঠলো।জীবনে প্রথমবারের মত কারো কাছ থেকে ঠকে যেয়েও কাঁদল না সে।

লিখেছেনঃBorhan uddin

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here