বন্ধা ২য়_পার্ট

0
213

বন্ধা
 ২য়_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

অর্পা ধীর গতিতে আমার দিকে আসতে লাগলো আমিও এক পা দুপা করে তার দিকে এগুতে লাগলাম।এক পর্যায়ে দুজনেই সামনাসামনি মুখামুখি হলাম।আমাকে কিছু বলতে না দিয়েই অর্পা বলতে শুরু করলো —-কি করছেন কি আপনি!আমাকে কি বাজারের কোন পণ্যসামগ্রী মনে হয় নাকি!
—আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম তার চোখে লুকিয়ে থাকা কষ্টের জল। আমি আবারও তার ওই মায়াবতী মুখের চাইনির প্রেমে পরে গেলাম।
—–কি হলো কথা কানে যায় না নাকি!(চিৎকার দিয়েই বলল)
——হ্যা শুনছি,, বলো কি বলবে তুমি?
—–আমাকে কি মনে করেন আপনি হুম!আমি কি বাজারের পণ্যসামগ্রী??
—–তুমি বাজারের পন্য সামগ্রী হতে যাবে কেন?আমি তোমাকে আমার মন রাজ্যের রানী আমার মায়াবতী মনে করি!
——কিহ!কি সব আবোলতাবোল বলছেন আপনি!আর আব্বুর কাছে কি সব যাতা বলছেন?
—–জ্বি!আর আমি কোন যাতা বলি নি।আমি যা বলছি তাই সত্যি!
—–আমাকে করুণা করছেন?আপনার দয়ার পাত্র বানাতে চাচ্ছেন আপনি?
—–না,, তুমি যেটা ভাবছো সেটা সম্পুর্নই ভুল।আমি তোমার মাঝে আমি আমার মায়াবতী কে খুজে পেয়েছি।তাই আমি আমার সেই মায়াবতী কে আমার স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাই,,,যদি সেই মায়াবতী রাজি থাকে?
—–এসব মন ভুলানো কথা বাদ দেন প্লিজ। আপনি কি জানেন আমি বন্ধা,,,আপনি কি জানেন আমি আর কোন দিন মা হতে পারব না।
—–হুম জানি! তাতে কি?
*——তাতে কি মানে! আপনি জেনেশুনে কেন একজন বন্ধা কে বিয়ে করতে চাইছেন।যে কিনা আপনাকে কোন দিন বাবা ডাক শুনাতে পারবে না।
——আচ্ছা তুমি যে বন্ধা এই কথা তোমাকে কে বলেছে?
——কে আবার বলবে সবাই বলে,,,ডাক্তার ও বলেছে,,তাই আমিও মেনে নিয়েছি যে আমি বন্ধা,,,আর কি প্রমান চান?
——আল্লাহ কি বলেছেন আপনি বন্ধা,,আল্লাহ কি আপনাকে মা হওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন?
—-সে নিশ্চুপ, কোন কথা না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে সে!
—–কি হলো নিশ্চুপ হয়ে গেলে যে,,,,শুনো সন্তান দেওয়া না দেওয়ার মালিক আল্লাহ,,,ওই ডাক্তার শত ভালো পরিক্ষা করেও বলতে পারবে না কে মা হতে পারবে আর কে পারবে না,,,,আল্লাহ সব কিছুর মালিক,,,তিনি চাইলে অবশ্যই তুমি মা হতে পারবে,,,হতে পারবে আমার মায়াবতী,,,দুজন মিলে নামাজ পরে আল্লাহর কাছে চাইলে ইনশাল্লাহ তিনি আমাদের ফিরিয়ে দিবেন না।তাই আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে তোমাকে বিয়ে করতে চাই,,,যদি তুমি রাজি থাকো!বাকিটা তোমার ইচ্ছা।ইচ্ছা হলে তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা জানিও।আমি তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা জানার অপেক্ষায় থাকবো।
আর কিছু না বলেই নিচের দিকে রওনা দিলাম।
অনুভব করলাম অর্পা আমার হাত টেনে ধরলো।আমি যেতে চেয়েও আর নিচের দিকে যেতে পারলাম না,,,অর্পার মায়াজালে আমি পুনরায় বন্ধি হয়ে গেলাম।
—–আমি না হয় রাজি হলাম।আপনার পরিবার কি মেনে নিবে আমাকে,,,মেনে নিবে কি তার এই বন্ধা পুত্রবধূ কে,,,যে কিনা তাদের নাতিনাতনির মুখ দেখাতে পারবে না।
——চুপ একদম চুপ,,,আর কখনওই নিজেকে বন্ধা বলে নিজেকে নিজের কাছে ছোট করবে না,,,আর আমি আমার পরিবারের একমাত্র ছেলে।আমার বিশ্বাস আমার পরিবার আমার পছন্দকে আমার ইচ্ছাকেই মেনে নিয়ে তোমাকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহন করবে।তবুও কি তুমি অসম্মতি জানাবে?
অর্পা আর কিছু না বলে আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কান্না শুরু করে দিলো।আমিও তাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম,,যাতে তার বিগত দিনের কষ্টগুলা কিছু হলেও নিজের মাঝে ভাগ করে নিতে পারি।
দুজনের কিছুক্ষণ নিরবতা। নিরবতা ভেঙে আমিই বললাম—কি ম্যাডাম এভাবেই থাকবেন না কি ছাড়বেন,,,বিয়ের আয়োজন তো করতে হবে নাকি?
—-কিছুটা লজ্জা পেয়ে আমাকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে নিচে চলে গেলো।
,
,
আমি আর দেরি না করে বাসায় ফোন দিলাম।আমার আর অর্পার বেপারে মা বাবাকে সব কিছু বুঝিয়ে বলাতে তারাও আর একমাত্র ছেলের কথা ফেলতে পারলো না।
,
,
আজ শুক্রবার। আমার আর অর্পার বিয়ে হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগেই।যদিও বিয়েতে তেমন কোন আয়োজন ছিল না।ছোটখাটো একটা আয়োজনের মধ্য দিয়েই বিয়েটা হয়ে গেল।আমার আর অর্পার বেপারে অনেকের মুখেই অনেক কথা শুনলাম।তবুও আমি তাদের কথার তোয়াক্কা না করে অর্পাকেই বিয়ে করলাম।কারন আমারা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে কেও কারও ভালো সহ্য করতে পারে না।অনেকেই চায় অপরের ক্ষতি হোক।কিন্তু আমি তো দেশের একজন উচ্চ শিক্ষিত নাগরিক,, তাই পাছের লোকের কথায় কান না দিয়ে আমি আমার সিদ্ধান্তকেই যথাযথা মনে করেছি।সংসার করবো আমি, আমার স্ত্রী কে ভালবাসব আমি আর সমাজের কিছু নিকৃষ্ট লোকের কথায় কি করে আমি আমার অর্পাকে ছেড়ে যাব।
,
,
যাই হোক কথা বলতে বলতে অনেক রাত হয়ে গেছে।আমাকে রুমে যেতে হবে। আমার মায়াবতী যে বউ সেজে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি আর দেরি না করে রুমে চলে আসলাম।রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিতেই অর্পা এসে সালাম করে বিছানায় গিয়ে বসে পড়ল।
আমি ধীর পায়ে গিয়ে তার পাশে বসলাম।তাকে দেখে বুঝতে পাড়লাম তার চেহারায় এক গম্ভীর ছাপের আবেশ।তাই অর্পাকে খুশি করার জন্য বললাম—-জানো অর্পা আজ তোমাকে এই সাজে কতো সুন্দরি লাগছে।আমি যে আজ নতুন করে এই অর্পার প্রেমে পড়ে গেলাম।
—–সে নিশ্চুপ,, কোন কথাই বলছে না!
—–কি হলো অর্পা কিছু বলছো না যে?তুমি কি আমাকে এখনো মেনে নিতে পার নি?
——সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।

চলবে……………………???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here