1.8 C
New York
Thursday, December 5, 2019
Home বড় গল্প বন্ধা ১ম_পার্ট

বন্ধা ১ম_পার্ট

পড়ালেখার সুবাদে বেশ কিছুদিন হলো একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে উঠেছি।
বাড়িতে উঠার সেই প্রথম দিন থেকেই একটি মেয়েকে লক্ষ্য করে আসছি,,,,বয়স আর কত হবে ২০-২২এর মতন,,, গায়ের রঙ ফর্শা উজ্জ্বল,, ঘন কালো কেশ,,,নজর কারা দুটি হরিনি আঁখি,,, সব মিলিয়ে সেই রকম সুন্দরি মেয়েটা,কিন্তু তার মনে হয়ত কোন সৌন্দর্য নেই,,,কেমন জানি ফেকাশে হয়ে আছে তার মায়াবী মলিন মুখখানি,,, দেখে বুঝা যায় তার প্রতিনিয়ত রুপচর্চা নেই,,,কেমন জানি অদ্ভুত টাইপের মেয়েটা,,,দেখে মনে হয় মায়াবতী কিন্তু তার মনে কি মায়া আছে?কে জানে কার মনের কথা,,,আমি তো ঠিকঠাক মেয়েটাকে চিনিই না,,,,এই বাড়িতে ভাড়া থাকে নাকি এই বাড়িই মেয়ে কে জানে তার খবর,,,
কিছুদিন আগে দেখলাম সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছাদের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে,,,সেই সুবাদে তার সাথে একটু ভাব জমাতে গেছিলাম,,,কে জানে যে আমার পোড়া কপাল,, আমি সেখানে যেতেই মেয়েটি যথাশিঘ্রই উঠে চলে গেল,,,আমি হতভম্ব হয়ে সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রুমে এসে ভাবতে লাগলাম, কে এই মেয়ে, কেন সে সারাক্ষণ এভাবে চুপচাপ থাকে,,কেও কি তাকে এভাবে চুপচাপ থাকতে বাধ্য করেছে নাকি কেও তার মনের সব রঙ আল্লাদ চুরি করে পালিয়েছে,,,কিভাবে আমি জানবো মেয়েটির বেপারে,,, অনেকদিন তো হলো এই বাড়িতে উঠেছি এখনো পর্যন্ত মেয়েটির বেপারে আমি কিছুই জানতে পারলাম না,,সে কি জানে না আমি তাকে বাড়িতে আসার প্রথম দিনই তার প্রেমে পরে গেছি, তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছি,,,আমার মন রাজ্যে তাকে রানী বানিয়ে আমার মন সিংহাসনে তাকে জায়গা,দিয়েছি,,,,সে কি জানে না তার সাথে একটু কথা বলার জন্য আমি অবসর সময়ে সারাক্ষণ এই ছাদে একা একা বসে থাকি,,,ধ্যাত সে কি করে এগুলা জানবে আমি কি তাকে কখনো এগুলা বলছি নাকি,,,যা হবার হবে আজ সে কাপড় শুকাতে ছাদে আসলেই আমি যে করেই হোক আমি আমার মনের কথা তাকে বলে দিব,,,এভাবে না বলা কথাগুলা মনের মধ্যে না রেখে তাকে বলে দিলে অন্ততপক্ষে নিজের মনের একটু শান্তি হবে,,,সে প্রতিদিন যোহরের নামাজের পূর্বে একবার ছাদে কাপড় শুকাতে আসে আর আসরের নামাজের পর আসে বিকেলবেলার সুন্দর মনোমুগ্ধকর আকাশ দেখতে,,,আমি শিউর সে আজকেও আসবে,,, তাই গোসল করে একটু স্মার্ট হয়েই ছাদে গেলাম,, কিছুক্ষণ অপেক্ষা,করার পর তার দেখা মিললো,,,সে কাপড়গুলা রশিতে মেলে দিয়েই দ্রুত পায়ে নিচের যাওয়ার জন্য রওনা দিলো,,বুক ভরা সাহস নিয়ে তাকে প্রথম বারের মতন ডাক দিলাম—এই যে শুনছেন!
—-সে একটু থেমে আবার হাঁটা শুরু করলো।
—-এই যে আপনার নামটা কি জানা যাবে,,,অনেকদিন ধরে নামটা জানার ইচ্ছা জেগে আছে,,,যদি বলতেন আপনার নামটা?
—-অর্পা, বলেই সে দ্রুত গতিতে নিচে নেমে গেলো,,, আমাকে আর কিছুই বলার /জানার সুযোগ দিলো না।
,
,
না এই ভাবে আর কতো দিন যা করার আজই কিছু করতে হবে,,,আমি শিউর অর্পার কাছে থেকে আমি তার বিষয়ে কিছুই জানতে পারব না,,,তাই আর উপায় না পেয়ে রাতে খাওয়াদাওয়ার পর বাড়িওয়ার রুমে গেলাম,,,আর যাই হোক তিনি অর্পার বেপারে কিছু জানলে জানতে পারে।।
কারন কোন বাড়িওয়ালাই ভাড়াটিয়া সম্পর্কে কিছু না জেনে শুনে বাড়ি ভারা দিবেন না,,,বাড়িওয়ালার রুমে ডুকতেই একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে গেল।মেয়েটির দিকে ভাল মতন তাকিয়ে দেখলাম এ আর কেও না এই যে আমার স্বপ্ন রাজ্যের রাণী অর্পা,,,আমি আমার মতন তার দিকে তাকিয়ে আছি আর সেই সু্যোগে সে আমার সামনে থেকে চলে গেলো,,,
,
,
আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাড়িওয়ালা বললো– কি হলো নিলয়,? এভাবে কি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি ভেতরে আসবে!
আমি–জ্বি আংকেল আসছি!ভেতরে গিয়ে বাড়িওয়ালার সামনে বসলাম।আমি কিছু বলার আগেই তিনি আমাকে বললেন –তা বাবা তোমার পড়ালেখা কেমন চলছে?এখানে থাকতে কি তোমার কোন সমস্যা হচ্ছে?
—-না না আংকেল কি বলছেন এসব আমার এখানে থাকতে কোন সমস্যা হচ্ছে না,,,আর আপনাদের দোয়ায় পড়ালেখা ভালই চলছে, আলহামদুলিল্লাহ্!
—–তা হঠাৎ কি মনে করে এলে আমার কাছে!কোন দরকারি কাজ আছে নাকি!
—- না আসলে আংকেল,, ইয়ে মানে ইয়ে!
—-কি ইয়ে মানে মানে করছো, যা বলার বলে ফেলো লজ্জা বা ভয়ের কিছুই নেই(আমার কাধে হাত রেখে বললেন)
—-আসলে আংকেল আমি অর্পার বেপারে কিছু জানতে চাইছিলাম?(অনেকটা সাহস নিয়ে বলেই ফেললাম).
আমার কথা শুনে তিনি মাথা নিচু করে বসে রইলেন।
—–কি হলো আংকেল কিছু বলছেন না যে?
তিনি আমার কথা শুনে বললেন কি জানতে চাও তুমি অর্পার বেপারে?
——-আমি জানতে চাই অর্পা কে? কি তার পরিচয়? কেনো সে সবসময় চুপচাপ থাকে!
——অর্পা হল আমার একমাত্র মেয়ে!
——কি!অর্পা আপনার মেয়ে?(অনেকটা অবাক হয়ে)
——হ্যা সত্যি অর্পা আমার মেয়ে!
*—–*-কিন্তু অর্পার এই অবস্থা কি করে?
——- অর্পার জন্মের পরপরই তার মা মারা যায়।আমিও অর্পার কথা ভেবে আর বিয়ে করিনি।আমি নিজেই ওর মা বাবা দুজনেরই দায়িত্ব পালন করেছি।অর্পা যখন ইন্টার পাশ করে তখন এক ধন্যাত্ব পরিবার থেকে তার বিয়ের প্রস্তাব আসে।আমিও অর্পার ভবিষৎবাণীর কথা চিন্তা করে তাকে সেই পরিবারের বড় ছেলের কাছে তাকে বিয়ে দিয়ে দেই।দুজনের সুখের সংসার চলতে থাকে।দেখতে দেখতে কেটে যায় দুটি বছর।কিন্তু সবার কপালে যে সব সুখ সয় না।তাই অর্পার আজ এই পরিণতি।
—— অর্পার কি হয়েছিল বিয়ের পর?
——বিয়ের দুই বছর পর অর্পার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানতে পারলো যে অর্পা বন্ধা। অর্পা নাকি আর কোন দিনও মা হতে পারবে না।এ কথা জানার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে তার উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এমনকি অর্পার স্বামীও তাকে নিয়ে সংসার করতে আপত্তি জানায়। যার ফলে অর্পার স্বামী অর্পাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।অর্পাও তা মেনে নেয়।যার ফল সরুপ আর অর্পার এই এলোমেলো দিনগুলি।যে মেয়েটার চঞ্চলতা সারা বাড়িকে মাতিয়ে রাখত আর আজকে সেই মেয়েটাই আমার অর্পাই আজ নিশ্চুপ প্রানীর মতই বেচে আছে।জানি না আল্লাহ ভবিষ্যৎতে কি রেখেছে আমার অর্পার কপালে।এগুলা বলেই অর্পার বাবা কান্নায় ভেঙে পরলেন।
——আংকেল আপনি কান্না করবেন না প্লিজ।
—-তবুও তিনি কান্না করেই চলছে।
—-আংকেল প্লিজ আপনি কান্না করবেন না।
আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে আর অর্পা যদি রাজি থাকে তাহলে আমি অর্পাকে বিয়ে করব।
—–কি!কি বলছো তুমি!অর্পা বন্ধা জেনেও তুমি অর্পাকে বিয়ে করবে?(অনেকটা অবাক হয়ে বললেন)
—– হ্যা আমি অর্পাকে বিয়ে করব।যদি আপনি আর অর্পা রাজি থাকেন।
—–আমি কেনো রাজি থাকবো না(হাস্যজ্জ্বল মুখে) তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করবে আর আমি কি রাজি না হয়ে পারি।কিন্তু বাবা অর্পা যদি রাজি না হয়?
—–সেটা আমি মানিয়ে নিতে পারব।আমি বরং এখন যাই।আপনি অর্পাকে বলবেন আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি,,যদি সে চায়।
অর্পার বাবা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলেন। আমি আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলাম।
,
,
সকালে কারো ডাকে ঘুম ভাঙল। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি অর্পা আমাকে ডাকতেছে।আমি চোখ মেলে তাকাতেই অর্পা বললো—-এই যে শুনছেন?
—-জ্বি, বলেন শুনতেছি।
—-সেই কখন থেকে ডাকতেছি আর আপনি সেই ঘুমের ঘুরেই রয়েছেন।যান তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ছাদে আসুন।
—–এতো সকালে ছাদে কেনো?
—–আমি বলছি তাই।আমি গেলাম।
সে চলে গেলে আমি ভাবতে লাগলাম এ আমি স্বপ্ন দেখছি না তো।যার সাথে একটু কথা বলার জন্য কত বাহানা খুজতাম আর আজ সেই কিনা আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললো।
এই সেই করতে করতে ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলাম।
ছাদে গিয়ে দেখি অর্পা আজও ছাদের এক কর্নারে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমার হালকা কাশির শদ্বে তার ঘুর ফিরল।
সে ধীর গতিতে আমার দিকে আসতে লাগলো আমিও এক পা দুপা করে তার দিকে এগুতে লাগলাম।এক পর্যায়ে দুজনেই সামনাসামনি মুখামুখি হলাম।আমাকে কিছু বলতে না দিয়েই অর্পা বলতে শুরু করলো…………….?????

চলবে……………….!

#বন্ধা
#১ম_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

MD SHARIF SORKAR
পৃথিবীর নিয়ম বড়ই অদ্ভুত। যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসো, সেই তোমার দুঃখের কারন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রুমাল, শেষ পর্ব।

#রুমাল, শেষ পর্ব। মদ্যপ ও একাধিক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মাস্কো প্লাজার পেছনের ফ্ল্যাটের তেরো নম্বর রুম থেকে ডিবি পুলিশের দেয়া ইনফরমেশন অনুযায়ী আটক করা...

রুমাল, পর্বঃ০৪

#রুমাল, পর্বঃ০৪ খবর শুনেছেন? জহিরের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে মিরসরাইয়ে। শাহরিয়ার খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে বলল,কি বলেন স্যার! কেস তো তবে জটিল হয়ে গেল।মোস্তাক...

গল্পঃআলেয়া। 

গল্পঃআলেয়া। Borhan uddin ওস্তাদজী আছে কি? নুরুন্নাহারের ধবধবে অর্ধনগ্ন পিঠখানা নজরে আসতেই মাথা নিচু করে নেয় ওবায়েদ ।গোসল সেরে আসা নুরুন্নাহার ওবায়েদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে ভেজা...

গল্পঃরুমাল, পর্বঃ০৩

গল্পঃরুমাল, পর্বঃ০৩ মাস দুয়েক পেরিয়ে যাবার পরেও জহিরের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তুরস্ক থেকে যে বিষের কৌটা আনা হয়েছিল চট্টগ্রামে সে বিষয়ে খোঁজ চলছে এখনো।শাহরিয়ারের...

Recent Comments