বন্ধাশেষ_পার্ট

0
184

বন্ধা
শেষ_পার্ট
#Shohag_Hasan_Niloy

—–অর্পা নিশ্চুপ,, কোন কথাই বলছে না!
—–কি হলো অর্পা কিছু বলছো না যে?তুমি কি আমাকে এখনো মেনে নিতে পার নি?
——সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
——কি হলো অর্পা এভাবে কান্না করছো কেন?আমি কি তোমাকে ভালবেসে, বিয়ে করে কোন অপরাধ করেছি?যার জন্য তুমি আমাকে আজ এই বাসর রাতে আমাকে এতো বড় সাজা দিচ্ছ।
——আপনি কেন অপরাধ করবেন।অপরাধ তো করেছি আমি।যার কারনে আজ আমি বন্ধা।আমি যে আর পাড়ছি না এই বন্ধা অপবাদের জ্বালা সহ্য করতে। কেনো আপনি আমাকে বিয়ে করে আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করলেন?
—— চুপ একদম চুপ।তোমাকে এই কথা বলতে নিষেধ করছি না।তুমি কোন অপরাধ কর নি।আল্লাহ হয়ত তোমাকে পরিক্ষা করার জন্যই এইরকম করেছে।প্লিজ তুমি নিজেকে আর নিজের কাছে ছোট করো না।অতীতকে ভুলে গিয়ে নতুন করে আবার তুমি সেই আগের অর্পা হয়ে তোমার বাবার কাছে আমার কাছে ফিরে আসো।এই সমাজ কখনওই তোমার দুঃখের ভাগ নিবে না।তাই সমাজকে দূরে রেখে,সমাজের মানুষগুলাকে পিছু রেখে নতুন করে আমার স্বপ্নের রাণী হয়ে নতুন করে জীবন শুরু কর প্লিজ।
——আমি তো চাই নতুন করে কারও সাথে নতুন করে ঘড় বাধতে,,চাই কারও স্বপ্নের রাণী হতে,,কিন্তু আমার অতীত তো আমাকে বাধা দেয়।।বাধা দেয় সেই সব মানুষের কথা গুলা,,যারা আমাকে দেখলেই বন্ধা বলে ডাকে।আমি বন্ধা বলে বাবাকেও লোকে অনেক কথা শুনায়,,,,আমি যে বাবার কষ্ট সহ্য করতে পারি না।তাই অতীতকে ভুলে গিয়ে আপনাকে নিয়ে সংসার সাজাতে চাই,,,তাতে কিছূটা হলেও বাবার কষ্ট লাগব হবে।আমি যে অন্য ৫/১০টা মেয়ের মতন সংসারী হতে চাই,,,আমিও যে কারও মুখে মা ডাক শুনতে চাই,,,কিন্তু কিছু একটা আমাকে বার বার বাধা দেয়।আমি যে আর এই জ্বালা সহ্য করতে পারছি না বলেই সে আমার বুকে মুখ গুজে কান্না শুরু করলো।
——-প্লিজ শান্ত হও অর্পা।আমিও চাই তুমি অন্য সব নারীর মতই চলো।সংসারী হও, তোমার ছোটখাটো স্বপ্নগুলা আমার হাত ধরে পুরন কর।কিন্তু তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে যে তা আর কখনওই সম্ভব নয়।তাই তোমাকে শক্ত হতে হবে,,,
এই অন্ধ সমাজকে দেখিয়ে দিতে হবে যে তুমি বন্ধা নও।ভালো মন্দ যা কিছু হচ্ছে সবই আল্লাহর ইচ্ছায়।কি পাড়বে তো আমাকে সাথে নিয়ে অন্য সবার মতন আমাকে ভালবেসে তোমার স্বপ্নগুলাকে পূরন করতে।
——হুম পাড়ব,,যদি আপনি পাশে থাকেন।
—–ইনশাল্লাহ আমি সবসময় তোমার পাশে আছি আর থাকব।
এবার চলো দুজন মিলে নামাজ পরে নেই,,,আল্লাহর কাছে নেক সন্তান লাভের জন্য প্রার্থনা করি,,,,আর যাই হোক সবাই ফিরিয়ে দিলেও আল্লাহ তার বান্দাদের ফিরিয়ে দিবেন না।আল্লাহ যে পরম দয়ালু,,তার দয়ার কোন শেষ নেই।আল্লাহ যদি আমাদের দোয়া কবুল করে নেয় তাহলে ইনশাল্লাহ তুমি আর বন্ধা থাকবে না,,তুমিও অন্য সবার মতন সন্তানের মা হবে,,তখন আর কেও তোমাকে বন্ধা বলতে পারবে না।
,
,
আমার কথায় সম্মতি জানিয়ে অর্পাও নামাজ পড়তে রাজি হয়ে গেলো। সেদিন নামাজ পড়ে মোনাজাত করে অনেক কান্না করেছিল অর্পা।
,
এভাবে প্রতিনিয়ত দুজন মিলে নামাজ পরে আল্লাহর কাছে একটা নেক সন্তান চাইতাম,,,যাতে করে আমার অর্পা আর কয়েকটা মেয়ের মতন জীবনযাপন করতে পারে,কেও যাতে আমার অর্পাকে বন্ধা বলে না ডাকতে পারে,,,অর্পা যাতে মাথা উচু করে এই সমাজে বাচতে পারে সেই জন্য আল্লাহর কাছে দুজন মিলে ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়েও আল্লাহর কাছে একটা সন্তান চাইতাম,,,তাহাজ্জুদ এর মোনাজাতে অনেক সময় অর্পাকে কান্না করতেও দেখেছি আমি।অর্পার সেই কান্না মিশ্রিত দোয়া কবুল করে আল্লাহ আমাদের বিয়ের ৩য় বছরের মাথায় একটা রাজকন্যা দান করেন,,,,বিয়ের পর কোন দিন এমন হাসিখুশি দেখিনি আমার অর্পাকে যেদিন আমাদের রাজকন্যা জন্ম নিল সেদিন হয়ত আমার অর্পার চেয়ে আর কেও বেশি খুশি হয় নি।।সেদিন প্রথম দেখেছিলাম আর মায়াবতীর মনোমুগ্ধকর হাসি,,,,আজও সেই হাসিকে সাথে নিয়ে বেচে আছি আমরা।আজ আমার অর্পা বন্ধা নয়।সেও একজন সন্তানের মা।আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করে আমাদের ঘড়কে উজ্জ্বল করে দিয়েছেন এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান।এখন আর আমার অর্পা গম্ভীর ভাবে থাকে না।আমাদের রাজকন্যাকে নিয়ে সব সময় হাসি মুখেই থাকে আর আমাকেও অনেক ভালবাসে।

,
আল্লাহর রহমতে আমার অর্পা দেখিয়ে দিয়েছে এই অন্ধ সমাজে কেও বন্ধা নয়।।সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরিক্ষাসরুপ।তাই বন্ধাদের ঘৃনা না করে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান,,, তাদের মা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগান। দেখবেন আল্লাহর রহমতে বন্ধারাও একদিন মা হবে।সেদিন দেখিয়ে দিবে আমাদের এই অন্ধ সমাজকে যে কেও বন্ধা নয়,,সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

(খুব ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে লিখছি।ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্পটা ভালো লাগলে অবশ্যই জানাবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here