রুমাল, পর্বঃ০৪

0
280

#রুমাল, পর্বঃ০৪
খবর শুনেছেন? জহিরের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে মিরসরাইয়ে। শাহরিয়ার খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে বলল,কি বলেন স্যার! কেস তো তবে জটিল হয়ে গেল।মোস্তাক আহমেদ চেয়ারে বসতে বসতে বললো,হ্যাঁ জটিল হয়েছে আবার কিছুটা খোলসাও হয়েছে।শাহরিয়ার কৌতূহলী চোখে মোস্তাক আহমেদের দিকে তাকিয়ে বললো,খোলসা কিভাবে হল? মোস্তাক আহমেদ তার ড্রয়ার থেকে চিটাগং ফ্লাইটের টিকিট শাহরিয়ারের দিকে বাড়ি দিয়ে বললো,খোলসা হয়েছে কিভাবে সেটা এসে জানবেন।বিকেল চারটা নাগাদ আপনার ফ্লাইট আছে,চিটাগং যাবেন। শাহরিয়ার রোবট কন্ঠে বলল,স্যার এই কেস তো সাজ্জাদ সাহেবের।মোস্তাক আহমেদ শীতল দৃষ্টিতে শাহরিয়ারের চোখে চোখ রেখে বলল,হ্যাঁ সাজ্জাদ দেখছে।সেই সাথে আপনিও দেখবেন। জহিরের বাড়ি চিটাগং এর বদ্দারহাট। আপনি যেহেতু কেসের সাথে আগে থেকেই আছেন তাই চিটাগং পুলিশের সাথে আপনিও জহিরের বাড়িতে যাবেন। দেখেন ওর ফ্যামিলি থেকে কিছু বের করতে পারেন কিনা।অনিচ্ছাসত্ত্বেও শাহরিয়ার চিটাগং এর উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়লো।

হিভেন রিসোর্টের সামনে এসে কক্সবাজার পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছে।সৌন্দর্য বর্ধনে পুরো রিসোর্টেটাই রুচিশীল ভাবে সাজানো হয়েছে।আরমান মাহবুব আর সাজ্জাদ বৃষ্টিতে ভেজা দুর্ব ঘাস মাড়িয়ে রিসোর্টে ঢুকে পড়ল।রিসোর্টের কেয়ারটেকার হামিদ দূর থেকে দুজন পুলিশ দেখতে পেয়ে খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়েছে।হামিদের কাছে এগিয়ে আরমান বললো, আপনার কাজ কি এখানে? হামিদ ঢোক গিলে বললো,আমি এখনকার কেয়ারটেকার। সাজ্জাদ পালটা প্রশ্ন করলো, ভেতরে রিসোর্টের লোক আছে না? হামিদ নিচু গলায় বললো,জ্বী আছে।

রিসোর্টের ভেতরটা বেশ যত্নের সাথে গোছানো।অভ্যর্থনা ডেস্কে থাকা সুদর্শন জোবায়ের সাজ্জাদদের দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,স্যার আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি? আরমান মাহবুব চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে বললো,আপনাদের এই সিসিটিভি চালু আছে? জোবায়ের কৃত্রিম হাসি দিয়ে বললো,জ্বী স্যার।চব্বিশঘণ্টাই চলে। দেয়ালে টাঙানো এক ভদ্রলোকের ছবির দিকে তাকিয়ে সাজ্জাদ বললো,উনি কে? জোবায়ের আবারো কৃত্রিম হাসি হেসে বললো,উনি এই রিসোর্টের মালিক।সাজ্জাদ পকেট কেটে থেকে একটুকরো কাগজ বের করে জোবায়েরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,এই নাম্বারটি কি আপনাদের রিসোর্টের? জোবায়ের এপর্যায়ে হাসতে ভুলে যায়।নরম গলায় বললো,জ্বী স্যার আমাদেরই তো।

আরমান বললো, এই নাম্বারটা কত নম্বর রুমের? জোবায়ের নাম্বারটা ভালোভাবে দেখে নিয়ে বললো, এটা চার নম্বর রুমের।

সাজ্জাদ ঘড়ির টাইম দেখতে দেখতে বললো,আপনাদের এখানে লাস্ট চার মাসে কে বা কারা এসেছে সেটার ইনফরমেশন নিশ্চয়ই সংগ্রহ করেছেন, তাইনা?

জোবায়ের মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলো।

আরমান জোবায়ের চোখে চোখ রেখে নরম গলায় বললো,আমাদের সেই ইনফরমেশন গুলো লাগবে।

জোবায়েরের যেন উত্তর মুখস্থই ছিল।জোবায়ের বললো,স্যার আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমি আপনাদেরকে কোনরকম ইনফরমেশন দিতে পারছিনা বলে। আমাদের রিসোর্টের মালিক আই মিন ফারুক স্যারের পারমিশন ছাড়া আমরা এই ব্যাপারে কোনভাবেই সাহায্য করতে পারবোনা।

আরমান জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানানোর পর।জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে ফারুক সাহেবের সাথে যোগাযোগ করার পর ফারুক সাহেব জানালেন তিনি ঐ মুহূর্তে ঢাকা অবস্থান করছেন। তিনি পরদিন কক্সবাজার ফিরেই নিজে থেকে সাজ্জাদদের সাহায্যে করবেন। পুলিশ সুপার সেদিন পারমিশন দেবার জন্য অনেক অনুরোধ করার পরেও তিনি রাজি হননি।যেহেতু ফারুক সাহেব স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তাই কোনরকম জোরজবরদস্তি করার সুযোগ না থাকায় সাজ্জাদ,আরমানদের সেদিনের মত ফিরে আসতে হয়।

জহিরের মৃত্যুর পর তার পরিবার তার লাশ নিতে এসেছিল।চিটাগং পুলিশ জহিরের ফ্যামিলি মেম্বারদের বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। শাহরিয়ার চিটাগং পুলিশকে সাথে নিয়ে জহিরের বাড়িতে আবার এসেছে

আধপাকা বাড়ির টিনের চালে জং ধরেছে। উঠানে সদ্য ফোটা মুরগীর বাচ্চাগুলো চ্যাও চ্যাও করে মায়ের পিছনে ছুটছে। বারন্দায় আধা থালা মাখানো ভাতে পানি ঢেলে কেউ ফেলে রেখেছে।উঠানের দড়িতে দুটো শাড়ি নেড়ে দেওয়া।শাহরিয়ার উঠান থেকে গলা বাড়িয়ে বললো,কেউ আছেন ভেতরে? বার তিনেক ডাকার পরে ঘরের ভেতর থেকে বাইশ-তেইশ বছরের যুবতী বেরিয়ে এসে বললো, আম্মা বাসায় নাই।হাসপাতালে ভর্তি। শাহরিয়ার বুঝে নিল এ কদিন এ বাড়িতে পুলিশ বেশ আসা যাওয়া করেছে তাই মেয়েটা তাদের দেখা মাত্রই প্রশ্নের আগেই উত্তর দিয়ে দিল।শাহরিয়ার বারান্দায় বসতে বসতে বললো,আপনি জহিরের কি হোন? মেয়েটা ভাতের থালাটা হাতে তুলে নিয়ে বললো,আমি তার মেয়ে।শাহরিয়ার ভণিতা না করেই বললো,আপনার মা যেহেতু নেই সেহেতু আপনার সাথেই কিছু কথা বলতে চাচ্ছি।মেয়েটা শাহরিয়ারের দিকে খানিক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,আচ্ছা অপেক্ষা করুন আমি আসছি।

মেয়েটা ওড়নায় ভেজা হাত মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেই শাহরিয়ারের মুখোমুখি বসে বললো,বলুন কি বলবেন।শাহরিয়ার বললো,আপনার বাবার খুন নিয়ে কাউকে সন্দেহ করেন কি?

-সন্দেহ তো অনেককেই করি।বাস মালিক সমিতির মির্জা সোলাইমানকে করি,পোর্টের ইসান মোল্লারে করি, ঘরের পেছনের যে গ্যারেজ আছে সেখানকার লিয়াকুবরে করি।আসলে আমার আব্বার গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদ লেগেই থাকত মানুষজনের সাথে।

শাহরিয়ার বললো,গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদে কারণ কি ছিল?

-সবার সাথেই টাকা নিয়ে ঝামেলা হতো।আব্বা কাজকর্ম ছেড়ে দিয়েছিল বছর দুয়েক ধরে।যখন জিজ্ঞাসা করতাম কিসের টাকা নিয়ে এত ফ্যাসাদ আব্বা এড়িয়ে যেতেন।

আপনার মাকে বলতো না?

-না।মা আব্বাকে প্রচুর ভয় পেতেন।কখনো আব্বা মাকে বাইরের কোন ব্যাপারে কিছু বলতেন না।যা বলার আমাকেই বলতেন সেটাও অনেক খোঁচানোর পরে

আপনি যাদের নাম বললেন এরা পুলিশের সন্দেহ তালিকায় আছে। এদের নিয়ে ইনভেস্টিগেশন চলছে।এর বাইরেও একজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে।তার সম্পর্কে কিছু জানেন কি?

– না আমি জানিনা।পুলিশ বারবার বলছিল রাশেদকে আব্বা কিভাবে চিনতেন।আব্বার বস কে। আসলে রাশেদ নামটাই আমরা আব্বার মৃত্যুর পর প্রথম শুনেছি।আর বসের ব্যাপারটা নিয়ে আমি শুধু জানি প্রায় আব্বাকে এক লোক ফোন দিতেন,আব্বা তাকে বস বলে ডাকতেন।জিজ্ঞেস করার পরেও আব্বা কোনদিন ঐ বস সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

ঘন্টাখানেক নানা প্রশ্নের পরেও কোন অথেনটিক ক্লু না পেয়ে যখন শাহরিয়ার জহিরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে তখন জানালা দিয়ে জহিরের মেয়েটা জানালা দিয়ে শাহরিয়ারকে ডেকে বলে,স্যার একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। বাড়ির ভেতরে আসবেন একটু?

জহির উঠানে ঢুকতেই মেয়েটি এগিয়ে এসে বললো, আমাদের ভার্সিটিতে অনেক জায়গার স্টুডেন্ট আছে। অনেকের সাথেই মিশেছি।এক বন্ধু আছে যার বাড়ি যশোরে,তাকে যদি বলি দোস্ত চল ঐখানে যাই সে উত্তরে বলে, “পরে যাবানে” তাকে যদি বলি দোস্ত চল কিছু খাই তাহলে সে উত্তরে বলে, “পরে খাবানে”। আব্বা যখন তার বসের সাথে কথা বলতো প্রায় বলতো,” জ্বী বস আমি যাবানে, আমি করবানে”। আসলে আব্বা উনার সাথে অনেক কথা বলতো,আমার কেন যেন মনে হয় আব্বার বস যশোর, সাতক্ষীরার দিকের মানুষ কিংবা উত্তর- দক্ষিণবঙ্গের। আব্বা আমাদের চাটগাঁইয়া ভাষা ছাড়া কথা বলতে জানতোনা।তবে উনি উনার বসের সাথেই শুধু যাবানে,করবানে বলতো।হয়তো আব্বার বসও এমন বলতো,সেটার অনুকরণ করতো আব্বা।এটা আমার ধারণা, আপনাদের কাজে লাগতে পারে তাই বললাম।

শাহরিয়ার বেশ অভিভূত হয় মেয়েটার কথা শুনে।শাহরিয়ার বললো,কোন সাবজেক্টে পড়ছেন?

-আই আর এ পড়ছি।

শাহরিয়ারের হিসেব আর আন্দাজ দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে যাচ্ছে। শাহরিয়ার ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের দিকে এগোতে শুরু করল।

সাজ্জাদ, আরমানকে আধঘন্টা অপেক্ষা করিয়ে ফারুক সাহেব আসলেন তার হিভেন রিসোর্টে। ফারুক সাহেব বসতে বসতে বললেন,আপনাদের অনেক্ষণ বসিয়ে রাখলাম কিছু মনে করবেন না। সাজ্জাদ বিরক্তি নিয়ে বললো,ইটস অকে।পায়ের উপর পা তুলে ফারুক সাহেব বেনসন সিগারেট মুখে নিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বড় করে একটা টান দিয়ে নাক দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বললেন,বলুন আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি? সাজ্জাদ দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সংবরণ করে বললো,কাল কার্যালয় থেকে তো আপনাকে সব জানানো হয়েছিল।ফারুক সাহেব দু ঠোঁট সরু করে ধোঁয়া ছেড়ে কপাল কুঁচকে বললেন,কি যেন বলেছিল? ভুলেই গেছি এই দেখেন! এটুকু বলেই ফারুক সাহেব হো হো করে হেসে উঠলেন।আরমান মাহবুব বিনীত গলায় বললো, আমরা জানুয়ারির বিশ থেকে সাতাশ তারিখের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাই সেই সাথে ঐ কয়দিন কে বা কারা রিসোর্টে ছিল তার ইনফরমেশন চাচ্ছি।

ফারুক সাহেব সিগারেটের শেষ টানটা চোখ বুজে দিলেন।চোখ বুজেই কি যেন খানিক্ষণ ভাবলেন।চোখ মেলে জোবায়েরে দিকে তাকিয়ে বললেন, আমারা তো শুধুমাত্র চলতি মাসের সিসিটিভির ফুটেজ রাখি তাইনা? জোবায়ের মাথা নাড়িয়ে বললো,জ্বী স্যার।ফারুক সাহেব উঠতে উঠতে বললেন,সরি ম্যান সিসিটিভি ফুটেজ এই মাসেরই পাবেন।আর কারা এসেছিল এই ইনফরমেশন গত তিনবছরেরটাও পাবেন।ফারুক সাহেব জোবায়েরের দিকে তাকিয়ে বললেন,জোবায়ের তুমি উনাদের এই ইনফরমেশনটা দিয়ে দিও।আমার চেম্বার অব কমার্সের মিটিং আছে আজ।সাজ্জাদ আর আরমানকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বেরিয়ে গেলেন তিনি।

ঘন্টা দেড়েক খোঁজাখুঁজির পর জানুয়ারির তেইশ তারিখে চার নম্বর রুমে যে মানুষটা ছিল তার নাম, সিগনেচার,আর স্থায়ী ঠিকানার জায়গায় রাজশাহী নামটা দেখতে মোটেও প্রস্তু ছিল না সাজ্জাদ।মিমের হাজব্যান্ড ইমতিয়াজ ছিল সেদিন চার নম্বর রুমে! সে ই তবে টেলিফোন করেছিল ইস্কান্দারকে! সাজ্জাদ দ্রুত মোস্তাক আহমেদকে ফোন দিয়ে সবটা জানিয়ে দিল। ইমতিয়াজের এন্ট্রি নেয়ার ডকুমেন্ট পেপারের ছবি তুলে নূপুরকে মেইল করে দিয়ে সন্ধ্যার ফ্লাইটেই ঢাকা ফিরে আসলো সাজ্জাদ।

শাহরিয়ারের পাঠানো ইনফরমেশনে বলা হচ্ছে এই কেসের মূল হোতা উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের কেউ। যেহেতু এই কেসের সাথে যতজন সন্দেহ তালিকায় আছে তাদের ভেতর মিমের হাজব্যান্ড ই একমাত্র উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের তাই আঙুলটা তার দিকেই ওঠে।আর সাজ্জাদের পাঠানো তথ্যতে নিশ্চিত হওয়া গেছে জানুয়ারির তেইশ তারিখে হিভেন রিসোর্টে সেদিন ইমতিয়াজ ই ছিল।ইস্কান্দারকে ফোন কলের তারিখটাও মিলে গিয়েছে।

যাবতীয় প্রমাণ হাতে পেয়ে মিমের হাজব্যান্ড ইমতিয়াজকে গ্রেফতার করে আনা হয়েছে সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে।

মিমের হাজব্যান্ডকে থানায় ধরে আনার পরদিনই মিমের বাবা নাজমুল,মিমের দুই বোন রিমি যুথি আর ইমতিয়াজের বাবা থানায় ছুটে এসেছে।

মোস্তাক আহমেদকে অবাক করে দিয়ে নাজমুল সাহেব বললো,আপনারা ভুল করে আমার মেয়ের জামাইকে ধরে এনেছেন।ইমতিয়াজের বাবা অনুনয়ের সুরে মোস্তাক আহমেদকে বললো,আমার ছেলে কেন আমার বৌমাকে মারতে যাবে! আপনাদের ভুল হয়েছে স্যার।

মোস্তাক আহমেদ নির্ভার সুরে বললো,আমাদের হাতে প্রমাণ আছে।প্রমাণ ছাড়া ধরিনি।

নাজমুল সাহেব খানিকটা বিচলিত হয়ে বললো,কি প্রমাণ আছে আপনাদের হাতে?

মোস্তাক আহমেদ ইমতিয়াজের বাবার দিকে হিভেন রিসোর্টের সেই এন্ট্রির পেপারটা দেখিয়ে বললো,এটা আপনার ছেলের সিগনেচার না?

ইমতিয়াজের বাবা একবার চোখ বুলিয়েই বললো,হ্যাঁ এটা তো ইমতিয়াজের সিগনেচার ই।তা এটা কিসের প্রমাণ? ।

মোস্তাক আহমেদ পেপারওয়েটটা ইমেইলের প্রিন্ট কপিটার ওপর রেখে ইমতিয়াজের বাবার দিকে চেয়ে বললো,আপনার ছেলে জানুয়ারির তেইশ তারিখে ইস্কান্দারকে ফোন দিয়েছিল হিভেন রিসোর্ট থেকে। ইস্কান্দারের পাঠানো বিষেই মিমকে মেরেছিল রাশেদ।মূল হোতা আপনার ছেলে ই। কেন করেছে সে প্রশ্নের উত্তর রিমান্ডে পাওয়া যাবে।

ইমতিয়াজের বাবা এ পর্যায়ে মোস্তাক আহমেদকে অবাক করে দিয়ে বললো, স্যার আপনাদের বড়সড় ভুলে হয়ে গেছে। জানুয়ারির তেইশ তারিখে আমার ছোট মেয়ের জন্মদিন ছিল।এইতো নাজমুল সাহেব,নাজমুল সাহেবে স্ত্রী, রিমি, যুথি,মিম সবাই সেখানে ছিল।ইমতিয়াজ সেদিন বাড়িতেই ছিল।জন্মদিন থেকে ঢাকা ফেরার কদিন পরেই নাজমুল সাহেবের স্ত্রী সুইসাইড করে।

মোস্তাক আহমেদ খানিকটা নড়েচড়ে বসে বললো,কি প্রমাণ আছে আপনার কাছে?।

যুথি মোস্তাক আহমেদকে বললো,আমরা ঐদিন ফেসবুক লাইভে এসেছিলাম কেক কাটার সময়।তাছাড়া অনেক ছবিও আছে।

যুথির মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে নাজমুল সাহেব বললো,সেদিন বেয়াইদের বাড়িতে পঞ্চাশেক লোকও ইমতিয়াজকে দেখেছে।তারা বড় প্রমাণ।

এত প্রমাণ যোগাড়ের পর,সন্দেহ তীব্র হবার পরেও ইমতিয়াজকে ছেড়ে দিতে হয় তার পক্ষে আরো স্পষ্ট প্রমাণ থাকায়।

মাস দেড়েক পর মোস্তাক আহমেদকে ডিবি ব্রাঞ্চ থেকে জানানো হয় তাদের কাছে ইনফরমেশন এসেছে মিম আর ঝুমুর কেসের মূল হোতাকে ধানমন্ডির মাস্কো প্লাজার পেছনের ফ্ল্যাটের তেরো নম্বর রুমে পাওয়া যাবে। মোস্তাক আহমেদ যেন ফোর্স নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়।

মোস্তাক আহমেদ তার টিম নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়েছে,লোকাল থানাকে আগে থেকেই ফোন দিয়ে নজরদারিতে থাকতে বলা হয়েছে।

চলবে…

লিখেছেনঃ Borhan uddin

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here